ঘুর্ণিঝড় রেমালের প্রভাব: ঝড়বৃষ্টিতে ব্যহত নির্বাচনী প্রচারণা

প্রকাশিত: ৮:৪৬ অপরাহ্ণ, মে ২৭, ২০২৪ 362 views
শেয়ার করুন
উপকূলীয় অঞ্চলে ঘুর্ণিঝড় ‘রেমাল’-এর প্রভাব পড়েছে শান্তিগঞ্জ উপজেলায়। সারা দেশের ন্যায় এ উপজেলায়ও সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত  কখনো হালকা, কখনো মাঝারি ও কখনো ভাড়ি বৃষ্টিপাত হচ্ছে। রাত ৮টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ঝড়-বৃষ্টি অব্যাহত ছিলো। এতে জনজীবন ব্যহত হওয়ার পাশাপাশি ব্যহত হচ্ছে নির্বাচনী প্রচারণাও। আগামী ৫ জুন ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ৪র্থ ধাপের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনকে সামনে রেখে তিন পদের জন্য ১২ জন প্রার্থী দিনরাত এক করে মাঠঘাট চষে বেড়াচ্ছেন। পূর্ব নির্ধারিত সময় অনুযায়ী উঠান বৈঠক, মিছিল-সমাবেশ ও গণসংযোগ করে যাচ্ছেন প্রার্থীরা। এতোদিন আবহাওয়া ভালো থাকায় উৎসবমুখর পরিবেশে চলছিলো প্রচার প্রচারণার কাজ। ঘুর্ণিঝড় রেমালের কারণে বিরামহীন বৃষ্টিপাত হওয়ায় প্রচারণায় প্রচণ্ড বেগ পোহাতে হচ্ছে প্রার্থীদের। তবে ঘরে বসে নেই কোনো প্রার্থীই। ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করে নিজেদের প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।
চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়া একাধিক ব্যক্তির সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রচার-প্রচারণার জন্য পূর্ব নির্ধারিত সময়সূচি থাকলেও বৃষ্টির কারণে প্রচারণায় কিছুটা হলেও ব্যঘাত ঘটছে। একদিনে একাধিক জায়গা উঠান বৈঠক-সভা থাকলেও বড় পরিসরে তা করা যায়নি। পূর্ব নির্ধারিত সময় থাকায় ইনডোরে বা কোনো কক্ষের মধ্যে তা করতে হয়েছে। আবার অনেক প্রার্থী বৈরি আবহাওয়ার খবর শুনে কোনো মিটিং কিংবা লোক জমায়েত না করে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন নিজেই। বেশিরভাগ প্রার্থী এই পন্থাই অবলম্বন করেছেন সোমবার সারাদিন। তারা জানান, আগামী দিনগুলোর আবহাওয়া যদি এমনই থাকে তাহলে এরকমভাবেই প্রচারণার কাজ চালিয়ে যাবেন। তবে, আবহাওয়া বৈরি হলেও নির্বাচন নিয়ে ভোটারদের ব্যপক আগ্রহ রয়েছে বলে জানান তারা।
মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদের প্রার্থী রফিকা মহিরের স্বামী মহির উদ্দিন বলেন, আজ (সোমবার) জামলাবাজ, দরগাপাশা, আস্তমাসহ বেশ কয়েকটি স্থানে আমাদের মিটিং করার কথা ছিলো। কিন্তু বৈরি আবহাওয়ার কারণে আমরা সেসব জায়গায় সভা করতে পারিনি। তবে ভোটারদের কাছে যাচ্ছি। ভোট, দোয়া সবকিছুই চাইছি। আমরা শতভাগ আশাবাদী ফলাফল আমাদের পক্ষেই আসবে। উপজেলার মানুষ গণরায়ে ফুটবলকেই বেচে নেবেন ইনশাআল্লাহ।
আনারস প্রতীকের প্রার্থী, সাবেক পরিকল্পনামন্ত্রী ও বর্তমান সংসদ সদস্য এম এ মান্নান পুত্র সাদাত মান্নান অভি বলেন, ঝড়-বৃষ্টি হচ্ছে ঠিক কিন্তু আমাদের প্রচারণা থেমে নেই। আজ পূর্ব পাগলার কাড়ারাই, বাদুল্লাহপুর, জয়কলসের জামলাবাজ, পূর্ব বীরগাঁওয়ের হাঁসকুড়িসহ বেশ কয়েকটি স্থানে আমাদের সভা ছিলো। বৈরি আবহাওয়া উপেক্ষা করে আমরা সেসব জায়গায় গিয়েছি। প্রতিবন্ধকতা ডিঙে প্রচুর  মানুষ এসেছেন। আমি তাদের কাছে কৃতজ্ঞ। বৃষ্টি না হলে আরও মানুষ হতো। বৃষ্টিবাদলের জন্য কিছুটা বেগ পোহাতে হচ্ছে ঠিক কিন্তু আমরা বসে নেই। জনগণের কাছাকাছি আছি। আমি খুবই আশাবাদী। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন।
মোটরসাইকেল প্রতীকের প্রার্থী, শান্তিগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হাজি আবুল কালাম বলেন, বৈরি আবহাওয়ার খবর শুনে কোনো জনসমাগমের দিকে যাই নি। বৃষ্টির জন্য ঘরেও বসে নেই। ব্যক্তিগতভাবে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছি। তাদের সাথে কথা বলছি। তাদের সেবা করার সুযোগ চাইছি। উপজেলাব্যাপী ব্যপক সাড়া পাচ্ছি। বিশেষ কোনো অঞ্চলকে প্রাধান্য দিয়ে নয়, সমস্ত উপজেলাবাসীর জন্য কাজ করে যেতে চাই। সমউন্নয়নে ভূমিকা রাখতে চাই। ঝড়-বৃষ্টিতে যদিও একটু কষ্ট হচ্ছে তবু মাঠে আছি। গ্রামে গ্রামে ঘুরছি। আমি প্রচণ্ড আশাবাদী। আশা করছি শান্তিগঞ্জ উপজেলার মানুষ আমাকে আবারও তাদের সেবা করার সুযোগ দেবেন।সকলের কাছে দোয়া-আশির্বাদ প্রার্থী।