
মঙ্গলবার বিকালে শান্তিগঞ্জ উপজেলার শান্তিগঞ্জ ও পাগলা বাজারের কয়েকটি দোকান ঘুরে জানা যায়, নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্য দ্রব্যের দাম বেশ কয়েকটিতে বাড়লেও কমেছে পেঁয়াজ ও সোয়াবিন তেলের দাম। দেশি পেঁয়াজ দু’তিন দিন আগেও বিক্রি হয়েছে ১শ’ থেকে ১শ’১০ টাকায়। যার বর্তমান বাজারমূল্য ৯০-৯৫ টাকা।সোয়াবিন তেল লিটার প্রতি কমেছে ৫ টাকা। আগুন লেগেছে কাঁচাবাজারে। দু’দিন আগের তুলনায় লেবু প্রতিটিতে দাম বেড়েছে গড়ে ৩-৫ টাকা। ফুলকপির দামও বেড়েছে। কাঁচামরিচ আগে বিক্রি হতো ৬০ টাকা। রমজান মাস শরু হতে না হতেই এক সপ্তাহের তুলনায় তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮০ টাকায়। টমেটোতে কেজি প্রতি বেড়েছে ২০ টাকা। ৩০ টাকার টমেটো বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়। আলুর দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। কেজিতে বেড়েছে ৫ থেকে ১০টাকা। বাঁধাকপি ও বেগুনের দাম দ্বিগুন বেড়েছে। শাক-সবজির বাজারের অবস্থা আরও গরম। প্রতিটি শাক-সবজিতে দাম বেড়েছে প্রায় দ্বিগুন। শশা ও খিরাতে কেজি প্রতি প্রায় ২৫ টাকা দাম বেড়েছে। দাম বেড়েছে ছোলারও। তিন-চারদিন আগের ৯২ টাকার ছোলা এখন বিক্রি হচ্ছে ১শ’১০টাকায়। মশুর ডালে দাম বেড়েছে ২০ টাকা। প্যাকেটজাত লিকুইড দুধে লিটার প্রতি দাম বেড়েছে ১০ থেকে ১৫টাকা, কলায় প্রতি বিশটিতে বেড়েছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা। এলাচি ও জিরার দ্বিগুন দাম বেড়েছে। বাড়তি দাম চিনিরও। বাজারের এমন ঊর্ধ্বগতিতে স্বস্তিতে নেই নিম্ন আয়ের মানুষেরা। পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে সরকারের হস্তক্ষেপ দাবি করেন সাধারণ ক্রেতারা।
আশরাফ আহমদ ও মুহিবুর রহমান নামের দুই ক্রেতা বলেন, লেবু কিনতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছি। মাঝারি সাইজের একহালি লেবুর দাম ৮০ টাকা। ৫০ টাকার গরম মসলা দোকানদাররা দিতে চান না। চিনি, ছোলার দাম তো আরও বেশি। খেজুর কিনতে সাহস করতে পারছি না। একপোয়া খেজুর দিতে চাননা দোকানদাররা। সবজির চাহিদা বেশি হওয়ায় দাম বেড়েছে এসব জিনিসেরও। আমাদের মতো সাধারণ মানুষেরা কিভাবে চলবে? সরকারের উচিত প্রশাসনের মাধ্যমে বাজারে বাজারে অভিযান চালিয়ে এসব পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা।
শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুকান্ত সাহা বলেন, আজ আমরা উপজেলার শান্তিগঞ্জ ও পাগলা বাজারে অভিযান চালিয়েছি। কাউকে জরিমানা না করলেও সবাইকে সতর্ক করেছি। বাজারে পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে দোকানদারকে নির্দেশ দিয়েছি। কেউ যদি চলমান দামের চেয়ে বেশি দামে পণ্য বিক্রি করেন সাথে সাথে যেনো আমাকে জানানো হয়। আমরা ব্যবস্থা নেবো। পুরো রমজানেই আমাদের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।
সুনামগঞ্জ ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারি পরিচালক মো. আল আমিন বলেন, আমি বর্তমানে ছাতকে অভিযানে আছি। এর আগে সুনামগঞ্জ সদরে অভিযান করেছি। আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে। তবে, পণ্যের দামে খুব একটা তারতম্য পাচ্ছি না। দোকানদাররা বেশি দামে কিনছেন তাই বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। তবু আমরা অভিযান অব্যাহত রাখবো। দব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে অভিযান অব্যাহত থাকবে।