তিস্তার সুরক্ষা নিশ্চিত করা, ভাঙন ও বন্যা প্রতিরোধ এবং সম্প্রতি তিস্তাকে ঘিরে নেয়া মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে তিস্তার দুই তীরে ২৩০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে মানববন্ধন করা হয়েছে।
স্মরণকালের এ মানববন্ধন হয় নীলফামারীসহ বৃহত্তর রংপুরের ৭৫ টি পয়েন্টে। তিস্তা নদীর প্রবেশ মূখ নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার পশ্চিম ছাতনাইয়ে জিরো পয়েন্ট থেকে শুরু করে গাইবন্ধার সুন্দরগঞ্জের হরিপুর ইউনিয়নের হরিপুর ঘাট পর্যন্ত। রবিবার (১ নভেম্বর) দুপুর ১২ টা থেকে বেলা ২ টা পর্যন্ত এ মানববন্ধন হয়।
কথা হয় তিস্তা বাচাঁও, নদী বাচাঁও সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি নজরুল ইসলাম হক্কানি ও সাধারণ সম্পাদক শফিয়ার রহমানের সঙ্গে। তারা বলেন, এক সময়ের প্রমত্তা তিস্তা বর্ষায় ভয়াল রুপ নিলেও শুষ্ক মওসুমে ক্ষিন নদীতে পরিনত হয়। এক সময়ের তিস্তা প্রস্থ ছিল ২ কি.মি। সেই নদী ভাঙ্গতে ভাঙ্গতে বর্তমানে প্রস্থে ১২ কি.মি হয়েছে। এর ফলে তিস্তার উভয় তীরের প্রায় ২০ লাখ মানুষ বছরের ৬ মাস উদ্বাস্ত জীবন কাটায়। তিস্তা শুকিয়ে যাওয়ায় ১৯ টি শাখা নদী গোচারণ ভূমিতে পরিনত হয়েছে। তিস্তা প্রবাহকে ঘিরে রংপুর বিভাগের ৮ জেলা ৫৮ টি উপজেলার মানুষের বেচেঁ থাকা নির্ভর করে।
তিস্তা নদীকে ঘিরে রংপুর বিভাগের কৃষি অর্থনীতি। কিন্তু তিস্তায় প্রয়োজনীয় পানি প্রবাহ শুষ্ক মওসুমে না থাকায় এ জনপদের কৃষকদের ভূ-গর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভর করতে হয় । এতে যেমন ব্যয় বাড়ে ঠিক তেমনি আগামী দিনে এ জনপদ মরুভূমিতে পরিনত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তিস্তা ব্যারেজে শুষ্ক মওসুমে পানি না থাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের সেচ খাল ও নালা গুলো কৃষকের কোন কাজে আসছে না । অথচ সরকার কৃষকের জীবন মান উন্নয়ন ও ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি করতে সেসব খাল খননে ব্যয় করেছে হাজার হাজার কোটি টাকা। ব্যায়িত ওই অর্থে কোন সুফল মিলছে না।
বর্তমানের তিস্তায় গভীরতা নেই বললেই চলে। নাব্যতা সংকটে তিস্তা এখন মরা নদীতে পরিনত হয়েছে। অথচ বর্ষা মওসুমে তিস্তার ভারতীয় অংশে নির্মিত গজল ডোবা ব্যারেজের সব কটা জলকপাট খুলে দেয়ায় ভাটির দেশ বাংলাদেশে দেখা বন্যা । তিস্তা নাব্যতা হারানোর ফলে পানি ধারন ক্ষমতা কমে গেছে । ফলে বর্ষা মওসুমে উজানের ঢলে তিস্তা নদীর উভয় তীরের ২০ লাখ মানুষ পানি বন্দি হয়। হাজার হাজার হেক্টর ফসলি জমি পানিতে ডুবে যায় । কৃষককুল অন্নহার হয়ে পড়ে।
জীব বৈচিত্রে এসেছে ব্যাপক পরিবর্তন। অকাল বন্যা ও খড়া মানুষের জীবনকে দিক হারা করে ফেলেছে। তাই তিস্তা অববাহিকার মানুষদের বাচাঁতে ও রংপুর বিভাগের কৃষি ভিত্তিক অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে প্রধানমন্ত্রী সাড়ে ৮ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নিয়েছেন। এ টাকা ব্যয়ে ড্রেজিং করে তিস্তার গভীরতা বৃদ্ধি ও শাখা নদীগুলোর প্রাণ ফিরিয়ে আনতে ওই প্রকল্প গ্রহণ করা হয় । এ প্রকল্প বাস্তাবায়ন হলে রংপুর বিভাগের সাধারণ মানুষ বেচেঁ থাকার জন্য নতুন পথের সন্ধান পাবেন ।


