কক্সবাজারে সাংবাদিক পরিচয়ে দুই মাদক ব্যবসায়ীর নীরব চাঁদাবাজি
শাহীন মাহমুদ শাহীন মাহমুদ
কক্সবাজার প্রতিনিধি
সাংবাদিকতার মতো মহান পেশাকে কাজে লাগিয়ে অপসাংবাদিকতা এবং মাদক ব্যবসা করে চলছেন কক্সবাজারের দুই যুবক। তারা প্রতিনিয়ত চালিয়ে যাচ্ছেন নিরব চাঁদাবাজি। এতে বিপাকে পড়ছেন পেশাদার সাংবাদিকরা৷ কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার রাজাখালী এলাকার বাসিন্দা বদিউল আলমের ছেলে মাদকসহ নানা অপরাধের অর্ধ ডজন মামলার আসামী মাদক সম্রাট শরীফ হোসেন সোহেল।
গত ১৭ সালের ১৬ আগষ্ট কুমিল্লার চান্দিনায় ৪ হাজার ইয়াবাসহ পুলিশের হাতে ধরা পড়ে। ওই মামলায় দীর্ঘদিন কারাভোগেরর পর জামিনে ফিরে আরোও বেপরোয়া হয়ে উঠেন। পরে তিনি বিভিন্ন অনলাইন টিভির ভুয়া কার্ড ইয়াবা ব্যবসার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে ব্যবহার শুরু করেন এবং শক্তিশালী একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলেন।
তার নেতৃত্বে গড়ে ওঠা সিন্ডিকেট পরিচালনা করেন, মহেশখালী পৌরসভার গোরকঘাটা চরপাড়া ৯নং ওয়ার্ডের সিরাজুল ইসলামের ছেলে মাদক, অস্ত্র, ডাকাতিসহ ডজন মামলার আসামী আব্দুর রাজ্জাক। সম্প্রতি এরা দুজন ইয়াবা ব্যবসাকে টার্গেট করে প্রতিদিন সকাল থেকে মধ্য রাত অবধি সাংবাদিক পরিচয়ে ঘাড়ে-গলায় ক্যামেরা, আইডি কার্ড, হাতে টিভি চ্যানেলের বুম ও দামি নোহা নিয়ে দাপিয়ে ইয়াবা পাচার করে আসছেন সারা দেশে। কারো বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ পেলেই হানা দেয় তার দপ্তর বা প্রতিষ্ঠানে। এমনকি বাড়ি বাড়ি গিয়ে হাজির হয় তারা।
এলাকাবাসী ও ভূক্তভোগীরা জানায়, পত্রিকা, ম্যাগাজিন ও অনুমোদনহীন টিভি চ্যানেলের আইডি কার্ড নিয়ে সোহেল ও রাজ্জাক অপ-সাংবাদিকতায় মেতে উঠেছেন। তারা সবসময় মাদক ব্যবসাসহ অসামাজিক কার্যকলাপে যুক্ত রয়েছেন দীর্ঘদিন ধরে। এরা দুজনেই নিজেদের মূল ইয়াবা ব্যবসা আঁড়াল করতে নিজেদের নাম লিখিয়েছে মফস্বল সাংবাদিকতায়।
কক্সবাজারের নয়া টাউট হিসেবে পরিচিত এদুজন সম্প্রতি নিজেদেরকে টেলিভিশন চ্যানেলের প্রতিনিধি পরিচয় দিয়ে নম্বরবিহীন নোহা, মোটরসাইকেলের নেমপ্লেটে প্রেস লিখে বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজি জোরদার রেখেছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অনুমোদনহীন টিভির সংবাদদাতা হিসেবে মিডিয়ার কার্ড সারাক্ষণ গলায় ঝুলিয়ে ঘুরে বেড়ান জেলার এপ্রান্ত থেকে শুরু করে ও প্রান্ত পর্যন্ত। সম্প্রতি নিজস্ব অর্থায়নে রাজ্জাক এবং সোহেল টিভি চ্যানেলের বুম তৈরী করে তা জনসম্মুখে দেখিয়ে বেড়ান আর ভাব নেন যে আমরা বড় মাপের সাংবাদিক। এরকম বেশ কয়েকজন টাউট বাটপাররা রয়েছেন তাদের সিন্ডিকেটে। এরা কাক ডাকা ভোরে বেরিয়ে মধ্য রাত অবধি দাপিয়ে বেড়ান মফস্বলের তৃণমূল পর্যন্ত।
মহেশখালীর দিদার নামে এক ব্যবসায়ী জানান, রাজ্জাক গত দেড় যুগ আগে আমাদের মোড়ে বসে খুচরা গাঁজা বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। সে জীবনে কোনদিন স্কুলে যাননি, অথচ তিনি এখন সাংবাদিকের পরিচয় দিয়ে নিরবে চালিয়ে যাচ্ছেন চাঁদাবাজি। তার নিজের নাম লিখতে পারেন না সে কিভাবে সাংবাদিক হন তা ভেবে হতবাক হয়েছেন এই ব্যবসায়ী। তার এইসব অপকর্মের কারনে তার বাবা তাকে ত্যাজ্যপুত্রও করেন বলে জানান এই ব্যবসায়ী।
পেকুয়ার আলী হোসেন নামে এক সিএনজি চালক জানিয়েছেন, কয়েক বছর পূর্বে তাদের সাথে সিএনজি চালাত সোহেল। বর্তমানে তিনি কয়েকটি অনলাইন টিভির উপজেলা প্রতিনিধি পরিচয় দিয়ে সারা পেকুয়া চষে বেড়াচ্ছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে কখনো কখনো নোহা গাড়ির সামনে প্রেস লাগিয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছে দিচ্ছেন ইয়াবার চালান। তার অত্যাচারে এলাকার সাধারণ মানুষ অতিষ্ট হয়ে পড়েছেন বলে দাবী করেছেন এই সিএনজি চালক।
সাংবাদিক পরিচয়ে এলাকার অসহায় গরীব মানুষের কাছ থেকে ভয়ভীতি দেখিয়ে মোটা মাসোয়ারা আদায় করে বলে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ। জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষকে বেশী হয়রানি করে থাকে বলে তারা দাবী করেন।
এসব সাংবাদিক নামধারী মাদক ব্যবসায়ীদের ব্যাপারে কক্সবাজারের সিনিয়র এক সাংবাদিক বলেন, শুনেছি তারা দুজন পেশাদার মাদকসেবী। পরে ইয়াবা ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন। হঠাৎ কয়েক বছর ধরে দেখছি তারা এখন ঘাড়ে কার্ড ঝুলিয়ে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে দেদারছে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন।
তিনি দু:খ প্রকাশ করে আরোও বলেন, আপোষহীন সংবাদ প্রকাশে যেসব সাংবাদিক সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে লুকিয়ে থাকা বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষের দুর্নীতি, অপকর্ম ও বিভিন্ন প্রকার অনিয়ম সবার মাঝে উপস্থাপন করে আসছেন তাদের সুনাম ক্ষুন্ন করার অপচেষ্টায় মেতে উঠেছেন এসব হলুদ সাংবাদিক।
কক্সবাজারে জাতীয় দৈনিকের সাংবাদিকরা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, দীর্ঘদিন যাবৎ সাংবাদিক পরিচয় দানকারী রাজ্জাক ও সোহেলের যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ প্রকৃত সাংবাদিকরা। শুধু সাংবাদিকরাই নয় প্রশাসন ও এদের অত্যাচারে বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে।
অভিযুক্ত এই সাংবাদিক পরিচয়ধারী দুই যুবকের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করেও ফোন বন্ধ থাকায় তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এলাকার প্রকৃত সাংবাদিক থেকে শুরু করে তাদের দ্বারা নির্যাতিতরা এসকল মাদক ব্যবসায়ীদের হাত থেকে পরিত্রাণ পেতে প্রশাসন, সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও তাদের স্ব স্ব পত্রিকা ও অনলাইন পোর্টাল মালিকদের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।


