মহিউদ্দিন শীরুর কর্মময় জীবন আমাদের অনুপ্রাণিত করে: লিয়াকত শাহ্ ফরিদী
মহিউদ্দিন শীরু একাধারে কবি, গীতিকার, সাংবাদিক, সাহিত্যিক, গবেষক, শিক্ষাবিদ এবং একজন বিচক্ষণ রাজনীতিক ছিলেন। ২০০৯ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তাঁর জন্ম ১৯৫৫ সালে ২৫ জুলাই। গ্রামের বাড়ি বালাগঞ্জ উপজেলার দেওয়ান বাজার ইউনিয়নের জামালপুর গ্রামে। বাবার নাম আজির উদ্দিন আহমদ ও মায়ের নাম কমরুন্নেসা খাতুন। আজ ২৫ সেপ্টেম্বর তাঁর ১১তম মৃত্যুবার্ষিকী।
বালাগঞ্জ কলেজের (বর্তমানে সরকারি) প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ বিশিষ্ট সাংবাদিক মহিউদ্দিন শীরু’র মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। ২৫ সেপ্টেম্বর বিকেল তিনটায় বালাগঞ্জ সরকারি কলেজের শিক্ষক মিলনায়তনে কলেজের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতিতে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন কলেজের অধ্যক্ষ লিয়াকত শাহ ফরিদী। কলেজের ইংরেজী বিভাগের সিনিয়র প্রভাষক ইমরুল কায়েস মৃধার সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য বক্তব্য দেন কলেজের শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সহকারী অধ্যাপক ফয়জুল ইসলাম মাসুক। আলোচনা সভায় অংশ নেন সাবেক চেয়ারম্যান এম এ মতিন, সহকারী অধ্যাপক পার্থ সারথী চৌধুরী, নন্দা দে, প্রনয় কুমার পাল, অবিনাশ আচার্য্য, আব্দুল জলিল, সিনিয়র প্রভাষক অমিতা দাস, প্রভাষক কৃষ্ণা দেব, সাথী রানী দাস, মিহির রঞ্জন তালুকদার। আলোচনা সভায় কলেজের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিতি ছিলেন। আলোচনা সভা শুরুর পূর্বে তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনায় এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। সভায় বক্তারা বলেন- মহিউদ্দিন শীরু তাঁর কর্মের মাধ্যমেই মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকবেন অনন্তকাল।
দেশ ও জাতির সেবায় তাঁর অনবদ্য অবদান ভুলে যাবার নয়। কলেজের অধ্যক্ষ লিয়াকত শাহ ফরিদী বলেন- মহিউদ্দিন শীরুর কর্মময় জীবন আমাদেরকে অনুপ্রাণিত করে। তিনি চিরঞ্জীব হয়ে আমাদের মাঝে বেঁচে থাকবেন। এই কলেজের প্রতিটি ইট-পাথরের সাথে মিশে থাকা তাঁর স্মৃতিগুলো অমর হয়ে থাকবে। আসরের নামাজের পর কলেজ সংলগ্ন ডিএন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মসজিদে মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। জীবন ও কর্ম: মহিউদ্দিন শীরু ১৯৭৩ সাল থেকে আমৃত্যু সাংবাদিকতার সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। সিলেটের প্রাচীনতম পত্রিকা সাপ্তাহিক যুগভেরীর মাধ্যমে তাঁর সাংবাদিকতার যাত্রা শুরু। তিনি ১৯৯১-৯২ এবং ১৯৯৩-৯৪ সালে দু’দফা সিলেট প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৮২ সাল থেকে তিনি দীর্ঘদিন দৈনিক বাংলার বাণীর সিলেট প্রতিনিধি ছিলেন। এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক সুরমা, সাপ্তাহিক পূর্বদেশ ও সাপ্তাহিক পত্রিকার সিলেট প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। দৈনিক বাংলার বাণীর বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে ১৯৮৬, ১৯৯১ এবং ১৯৯৩ সালে যুক্তরাজ্য ভ্রমণ করেন। তিনি বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) সিলেট অফিস প্রধান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। সাপ্তাহিক গ্রাম সুরমা, দৈনিক সুদিন’র প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক ছিলেন। মহিউদ্দিন শীরু ১৯৭০ সালে বালাগঞ্জের দেওয়ান আব্দুর রহিম হাইস্কুল থেকে এসএসসি, ১৯৭৩ সালে মদন মোহন কলেজ থেকে এইচএসসি, ১৯৭৬ সালে সিলেট এমসি কলেজ থেকে বিএ পাস করেন। ১৯৭৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতায় এম.এ ডিগ্রি লাভ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে তিনি সাপ্তাহিক যুগভেরীর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর লেখা সিলেটের শতবর্ষের সাংবাদিকতা, প্রবাসে বালাগঞ্জবাসী, পাখির স্বজন নেই, ক্লান্ত রাতের ধ্রবতারা প্রভৃতি অমর গবেষণা গ্রন্থ ও কাব্যগ্রন্থ রয়েছে। মহিউদ্দিন শীরুর স্ত্রী হাসিনা বেগম চৌধুরী, মেয়ে মাশরুবা মালিহা অনি এবং পুত্র ওয়াজিহ আহমেদ অমু।


