গাংনীর রাজা ক্লিনিকে চিকিৎসা সেবার নামে বাণিজ্য

ভুল চিকিৎসায় রোগীর মরণ দশা

মিনারুল ইসলাম মিনারুল ইসলাম

মেহেরপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৭:০৪ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২০ 689 views
শেয়ার করুন
মেহেরপুরের গাংনীর রাজা ক্লিনিকে চিকিৎসা সেবা দেওয়ার নামে রমরমা বাণিজ্য, ভুল চিকিৎসায় রোগীর মরণদশা। ঠিকই এমনই ঘটনা ঘটেছে উপজেলার কাজিপুর ইউনিয়ন এর সাহেবনগর গ্রামের সৌদি আরব প্রবাসী ফেরত ইন্তাজ আহমেদের স্ত্রী খাদিজা খাতুন (৩০) এর সাথে।
 
প্রবাসী ফেরত ইন্তাজ আহমেদ জানান, আমার স্ত্রীর গর্ভে তিন মাসের সন্তান ছিল হঠাৎ আমার স্ত্রীর গর্ভে থাকা সন্তান মারা যায়। গত(১৯ জুলাই)পেটে থাকা মৃত সন্তানটি ডিএনসি করার জন্য রাজা ক্লিনিকে ভর্তি করায়। আমাদের সাথে রাজা ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ ৪ হাজার টাকার চুক্তিতে ডিএনসি করাতে সম্মতি গ্রহণ করে। তিনি আরো জানান, ডিএনসি করে আমরা বাসায় নিয়ে চলে আসি। পূনরায় রাজশাহী থেকে ফিরে এসে রাজার কাছে গেলে ক্লিনিকের লোকজন বলে, এসব কথা বলে লাভ নাই। আপনি চলে যান।
 
রোগী খাদিজা খাতুন জানান, ডিএনসি করার ২৩ দিনের মাথায় আমার মাত্রাতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হয়। আমরা আবার পুনরায় রাজা ক্লিনিকে যাই। পরে ডাঃ মোঃ পারভিয়াস হোসেন রাজা আমাকে দুটি ইনজেকশন দিয়ে বেডে পাঠিয়ে দেয়। বেডে যাওয়ার পরপরই রাজা ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ তড়িঘড়ি করে বের হয়ে যেতে বলেন। তিনি আরো বলেন, একপর্যায়ে আমরা মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে যাই। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে দি ইউনাইটেড হাসপাতাল রাজশাহীতে অপারেশন করে আমার জরায়ুর নাড়ি ও বাচ্চার থলি কেটে বাদ দেয়া হয়েছে। আমার মত যেন অন্য কোন মেয়েদের এরকম সমস্যায় পড়তে না হয় এর জন্য মেহেরপুর জেলা সিভিল সার্জনের প্রতি অনুরোধ করেন।
 
নাম প্রকাশ করা যাবে না এমন শর্তে একজন জানান, আমরা যতদূর জানি যদি কোন মহিলার পেটের বাচ্চা নষ্ট হয়ে যায়, তাহলে গাইনি ডাক্তারের মাধ্যমে ডিএনসি করানো হয়। কিন্তু ডাঃ মোঃ পারভিয়াস হোসেন রাজা ডাক্তার কিভাবে সে ডিএনসি করেছে।
 
ডাঃ মোঃ পারভিয়াস হোসেন রাজা বলেন, এ ব্যাপারে আমার কিছু বলার নাই। আমার যা বলার রোগীকে বলে দিয়েছি। আপনারা নিউজ করেন। আমি সিভিল সার্জনকে বুঝিয়ে বলব।
 
গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ রিয়াজুল আলম জানান, এ বিষয়ে আমার কাছে কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে এর যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।