ফেসবুক ছিলো কাছে আসার, দূরে সরায় কেন?

লুৎফুর রহমান লুৎফুর রহমান

সম্পাদক ও সিইও, বায়ান্ন টিভি

প্রকাশিত: ১০:৩২ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৯, ২০২০ 930 views
শেয়ার করুন

ফেসবুক তৈরী হয়েছে দূরের মানুষ কাছে আনতে। কিন্তু আমাদের অপব্যবহারের ফলে কাছের মানুষ ফেসবুকের জন্য দূরে সরে যায়। মতের অমিল হলে ব্লক। স্ট্যাটাসের জের ধরে খুন। এমন অপ্রত্যাশিত খবর আমরা জানি। কিন্তু পজিটিভ ভাবে যারা ফেসবুক চালায় তারা নিমিষে দূরদেশ থেকেও পাশের রুমের মতো ডাক দেয় আমাদের। জাগায় দেশের কল্যাণে।

ফেসবুক ২০০৪ সালে শুরু হয়। আমি তখন থেকে ব্যবহার করতাম পত্রিকায় খবর পাঠানোর সুবাধে। দেশে নেটক্যাফে বসে এক ঘণ্টা চালিয়ে আগা মাথা বুঝতাম না। তবে বিস্ময় লাগতো অজানা মানুষকে কাছে পেয়ে। তারচে’ সুখের ছিলো হারিয়ে যাওয়া সহপাঠিদের খুঁজে পেয়ে।

জোকারবার্গ ২০০৪ সালে ফেসবুক শুরু করেন প্রেমিকার সাথে যোগাযোগ রাখতে। সেই থেকে ফেসবুক আর থেমে থাকেনি। জোকারবার্গের ফেসবুক হয়ে ওঠে দুনিয়ার সেরা মাধ্যম। যারা শুরুর দিকে ফেসবুক বলে নাক উঁচু করতেন তারাও আজ মশগুল ফেবুর প্রেমে। ২০১০ সালের পর ফেসবুকের জাগরণ বিশ্বব্যাপি গণহারে চলে আসে। ফেসবুক আসায় ওয়েবের ডিমান্ড কমিয়ে দিয়েছে। এমনকি মূলধারার গণমাধ্যম নিজেদের ফেসবুক পেজ দিয়ে খবর পাঠান মানুষের কাছে। কেউ কেউ ফেসবুকে ভাইরাল হবার মানসে বাজেভাবে নানা জিনিস উপস্থাপন করে ভিউ কামান। যাতে পকেট ভরেন ডলারে।

  • আজকাল ফেসবুকে সকল আন্দোলন চাঙা হয়। লকডাউনের আগেও তার প্রচলন ছিলো। সিটিজেন জার্নালিজমও ফেসবুকে হয়। কিন্তু তারচে’ বেশি হয় অপপ্রচার। মিথ্যা বানোয়াট, কাটছাট করে চিলে কান নিয়ে যাবার মতো ঘটনা তৈরীতে অন্যদেশের পাল্লায় আমরা মাশাআল্লাহ এগিয়ে আছি। ফেসবুকের অটো অনুবাদে আমাদের এসব কুকীর্তি কিন্তু অন্যদের কাছেও চলে যায়। অন্যদেশের লোকেরা তা দেখে আর মজা লয় বীর বাঙালির ত্যানাছিঁড়া কাহিনী নিয়ে। আমরা নিমিষে একজন মানুষকে নিজের ওয়ালে দু লাইনের ভুল বানানের একটি স্ট্যাটাস দিয়ে হেনস্থা করি। মজা পাই তাতে। কিন্তু ভুলে যাই মানবকল্যাণে প্রযুক্তির বিকাশ সেই শ্লোগান। সেই সারিতে আমরা বাদ দিই না দেশের প্রধান মন্ত্রী, মন্ত্রী, রাষ্ট্রদূত সম্মানীয় মানুষকেও। বাংলাদেশ সরকার এবং পৃথিবীর সকল দেশের সরকার এই অপপ্রচারের বিরুদ্ধে কঠোর বিধান রাখলেও আমরা নিজেদের ক্ষোভ মিটানো অথবা বিভ্রান্ত ছড়াতে মরিয়া হয়ে ওঠি।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর আত্মজীবনীতে বাঙালির পরচর্চা আর হিংসা নিয়ে বিস্তর লিখে গেছেন। আমরা জাতির পিতার সে ধারণা থেকেও বেশি করি আজকাল ফেসবুকে। রবীন্দ্রনাথ বা বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে হয়তো তা নিয়ে সুন্দর করে আমাদের কীর্তি তুলে ধরতেন। আমরা কী একবারই ভাবি না, আজ সময় আমার তো কাল উনার? আচ্ছা, কী লাভ হয় সামান্য রাগ মিটাতে আরেকজন মানুষকে অপদস্থ করে। অথচ সংযুক্ত আরব আমিরাতের কথাই বলি–এ দেশে সামাজিক মাধ্যমে কারো বিরুদ্ধে মানহানি করায় ৫০ হাজার দিরহাম পর্যন্ত জরিমানা আছে। এমনকি দোষি ব্যক্তিকে সোজা ব্যান করে দেশে পাঠানোরও আইন আছে। আমাদের দূতাবাস সবসময় এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে প্রবাসিদের আহবান করেন।

আসুন না, সময়কে ভাল কাজে ব্যয় করি। দেশের কাজে ব্যয় করি। পুস্তকের সেই কথা মনে করে এগিয়ে যাই—‘যে সহে, সে রহে’। কবি আবুল হাসানের কথায় নিরবে সহে ঝিনুক হয়ে মুক্ত ফলান। বোধের ওঠানে রোদ ওঠুক আমাদের। সকল অমানিশা কেটে ইতিবাচক হয়ে ওঠুক ফেসবুকের জমিন। আমাদের মগজ আর মনের পরিচায়ক চলন বলনের মতো ফেসবুকের দেয়াল হোক ইতিবাচক আর বন্ধুত্বময়।