চাকুরী থেকে অব্যাহতির নেওয়া মানুষ গুলোর আর্থিক এখন সংকট চরম পর্যায়ে

প্রকাশিত: ৭:৩৯ অপরাহ্ণ, মে ১১, ২০২১ 173 views
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

 

দীর্ঘায়িত হতে পারে বেকারত্বের সংকট। করোনাভাইরাস মহামারি কবে শেষ হবে, তা এখনো সুনির্দিষ্ট করে কিছুই বলা সম্ভব হচ্ছে না। এখন তো মহামারির কারণে সবকিছুই আটকে আছে। কোন সার্কুলার নাই, কোন চাকরির পরীক্ষা নেই। এই মহামারি কবে শেষ হবে, কবে আবার চাকরির প্রক্রিয়া শুরু হবে জানি না। যারা বেকার আছেন, চাকরির খুব প্রয়োজন, তাদের জীবনটা এই মহামারির কারণে একটা অনিশ্চয়তার ভেতর দিয়ে যাচ্ছে।

কোন কাজ নেই, যতদিন যাচ্ছে পরিবারের জন্য বোঝা হয়ে যাচ্ছে। জানতে চাইলে বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা জানান, যেহেতু আমাদের ব্যবসাটা আগের তুলনায় অনেক কমে আসছে, তাই নতুন করে কর্মী নিয়োগ আপাতত আগের মতো আর হচ্ছে না। বরং কাউকে কাউকে অব্যাহতি দেয়া হচ্ছে। কর্মী নিতে হলে, বেতনভাতা দিতে হলে সেজন্য তো ব্যবসা করতে হবে, আয় করতে হবে। অর্থনৈতিক অবস্থা যদি ঠিক না হয়, ব্যবসা যদি ভালো না হয়, তাহলে তো আর কোন প্রতিষ্ঠানের পক্ষেই নতুন করে কর্মী নেয়া সম্ভব হয় না। একাধিক প্রতিষ্ঠানের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অত্যন্ত জরুরি না হলে তাদের প্রতিষ্ঠানে আপাতত কয়েকমাস কোন রকম নিয়োগ কার্যক্রম না করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে শীর্ষ পর্যায় থেকে। পরিবারের সদস্যদের মলিন চেহারা সেই হতাশা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

দীর্ঘদিন শ্রমবাজারের বাইরে অনেকদিন থাকলে তাদের মধ্যে হতাশার জন্ম নেবে, সামাজিক একটা প্রভাব তৈরি করবে। এর ফলে যে শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতি হবে, তাই নয়, এর ফলে সমাজের ওপরেও সামগ্রিকভাবে একটা প্রভাব পড়বে।মনে রাখা জরুরি যে, নিজের কাজের মূল্যায়নের সঙ্গে বরখাস্ত হওয়ার বিষয়টির কোনও যোগ নেই। বরং এর পিছনে আরও অন্যান্য অনেক বিষয় জড়িত থাকে। এই ঘটনাটিকে নিজের চরম ব্যর্থতা বা কর্মদক্ষতার অভাব হিসেবে না দেখার চেষ্টা করা উচিত। মনে করতে হবে যে, আপনি একটি বিশেষ পরিস্থিতি ও পরিবেশের শিকার হয়ে পড়েছেন, যা নিয়ন্ত্রণ করা আপনার পক্ষে সম্ভব নয়। চাকরি খোয়ানোর পিছনে থাকতে পারে ব্যবসায়িক সমস্যা, পরিচালন ব্যবস্থার ত্রুটি বা আপনার জীবনে হওয়া এমন কোনও চাপ, যার ফলে আপনি কাজের ক্ষেত্রে আপনার সেরাটা দিতে ব্যর্থ হয়েছেন প্রভৃতি কারণ।

মনে রাখতে হবে চাকরি হারানোর বিষয়টা জীবনের একটা সামান্য ঘটনা এবং এর ফলে যে সব রাস্তা বন্ধ হয়ে গেল, তা নয়। এই ঘটনা দিয়ে জীবনের সামগ্রিক ব্যর্থতাকে বিচার করা ঠিক নয়। বরং ভাবা উচিত যে, যে কাজ আপনি করছিলেন তা শেষ পর্যন্ত পুরোপুরি সফল হল না। এর সঙ্গে এটাও মনে করতে হবে যে, আমাদের চারপাশে আমরা এমন অনেক কাজ করে থাকি, যাতে আমরা সফল হই।বন্ধুদের প্রতি বিশ্বাস রাখা জরুরি। কারণ চাকরি থেকে বরখাস্ত হওয়ার ফলে আপনার উপরে পরিবারের অনুভূতিগত ও অর্থনৈতিক চাহিদাগত চাপের সৃষ্টি হতে পারে। ফলে পরিবারের লোকজনের থেকে আপনি পর্যাপ্ত সহযোগিতা নাও পেতে পারেন।

এক্ষেত্রে এমন একজনকে বিশ্বাস করতে হবে যিনি কোনওরকম মতামত বা আদেশ-উপদেশ না দিয়ে আপনার পাশে থাকবেন। আর এই কাজ একজন প্রকৃত বন্ধুর পক্ষেই করা সম্ভব। চাকরি চলে গেলে প্রথমেই একটি দিশেহারা পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে হয়। সেটি স্বাভাবিকও। পেটে লাথি খেলে কার ভালো লাগবে বলুন? বেশির ভাগ সময় চাকরি চলে যায় হুট করেই। তাতে হতাশাও আসে। কিন্তু হতাশায় ডুবে যাওয়াটা কোনো কাজের কথা নয়। কে জানে, হয়তো এই চাকরি চলে যাওয়াতেই আপনার জীবনের সম্ভাবনার নতুন কোনো দুয়ার খুলে যেতে পারে। হয়তো এক জায়গার ব্যর্থতাই আপনাকে একসময় পৌঁছে দেবে সাফল্যের চূড়ায়। তবে তার জন্য নিজেরও কিছু কসরত করতে হবে।

নিজের সামর্থ্যের ওপর বিশ্বাস রাখতে হবে। এক জায়গায় আপনার চাকরি নানা কারণেই চলে যেতে পারে, কিন্তু তাই বলে আপনি ‘গুড ফর নাথিং’ হয়ে যেতে পারেন না। মনে রাখতে হবে, যে প্রতিষ্ঠানে আপনার চাকরি চলে গেছে, সেখানেও কিন্তু আপনার সামর্থ্য বিবেচনা করেই চাকরি দেওয়া হয়েছিল। তাই বেকার অবস্থাতে ইতিবাচক থাকা অত্যন্ত জরুরি। পরিশ্রম করলে এবং চেষ্টা অব্যাহত রাখলে একদিন না একদিন সফল হবেন আপনিও। জীবনে কিছুদিন করতে পারেন স্বেচ্ছাসেবীর কাজ। বিনা বেতনের এই কাজে পাবেন মানসিক প্রশান্তি। মহৎ কোনো কাজে জড়ানোর তৃপ্তিও কম নয়। সেই সঙ্গে এটি আপনার জীবনবৃত্তান্তকেও আকর্ষণীয় করে তুলতে পারে।

কারণ, চাকরিদাতারা শুধু যে ‘কর্মবীর’ খোঁজেন, তা নয়। একই সঙ্গে তাদের কাছে কর্মীর সততার মূল্যও অনেক। তাই বেকার জীবনে স্বেচ্ছাসেবীর কাজ মন্দ নয়। বেকার থাকার সময়টায় ঘরে বসে না থেকে নিজের দক্ষতার উন্নতিতে মনোযোগ দেওয়া যায়। বাড়তি কোনো পড়াশোনা বা ক্যারিয়ারের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন কোর্স করা যেতে পারে। এই বাড়তি পড়াশোনা কখনোই বৃথা যায় না। এতে একদিকে যেমন আপনার জীবনবৃত্তান্ত সমৃদ্ধ হবে, অন্যদিকে ফিরে পেতে পারেন নিজের হারানো আত্মবিশ্বাস। হয়তো এই বাড়তি পড়াশোনার সনদই আপনাকে পাইয়ে দেবে নতুন চাকরি। একই সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারেরও উচিত আরো বেশি বেশি করে চাকরির সুযোগ করে দেওয়ার ব্যবস্থা করা যা বেকারত্ব দূরীকরণেও সুদূরপ্রসারী ভূমিকা রাখবে।