আমিরাতে আড়ম্বরপূর্ণ মহালয়া উদযাপনে দুর্গোৎসবের ক্ষণ গণনা শুরু
আগামী ১৬ অক্টোবর ষষ্ঠীপূজার মাধ্যমে দুর্গাপূজার সূচনা হতে যাচ্ছে
সংযুক্ত আরব আমিরাতে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে শুভ মহালয়া। এর মধ্য দিয়েই প্রবাসে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিক ক্ষণ গণনা শুরু হয়েছে। ভোরের স্নিগ্ধ আলোয় পিতৃপক্ষের সমাপ্তি ঘটিয়ে মর্ত্যলোকে সূচনা হয়েছে দেবীপক্ষের।
শনিবার (১০ই অক্টোবর) প্রবাসীদের শীর্ষ সংগঠন ‘প্রবাসী সনাতনী ঐক্য পরিষদ’-এর উদ্যোগে আমিরাতের আজমান প্রদেশের উইনার স্পোর্টস ক্লাবে এই শুভ মহালয়ার আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল দুবাই ও উত্তর আমিরাতের কমার্শিয়াল কাউন্সিলর শ্রীমান আশীষ কুমার সরকার, শ্রীমান অদুল কান্তি সরকার এবং শ্রীমান উত্তম হাওলাদারসহ অন্যান্যেরা।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই মঙ্গলপ্রদীপ প্রজ্বালন করে উৎসবের সূচনা করেন দীনবন্ধু তালুকদার, প্রদীপ কুমার রায় চৌধুরী, বিশ্বনাথ দে, অশীম ভট্টাচার্য, প্রতাপ রুদ্র জগন্নাথ দাস, দেবব্রত তালুকদার, বিধান কুমার পোদ্দার ও সুজন চক্রবর্তী।

রাজীব সাহা ও স্বর্ণালী ঘোষের যৌথ সঞ্চালনায় এতে সভাপতিত্ব করেন প্রবাসী সনাতনী ঐক্য পরিষদের সভাপতি বাবু অজিত কুমার রায়।
সনাতন ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, মহালয়ার দিনেই দেবী দুর্গা মহিষাসুর বধের দিব্য দায়িত্ব লাভ করেন। চণ্ডীপাঠের মধ্য দিয়ে দেবীকে মর্ত্যলোকে আবাহন জানানো হয়।
আজমানের এই অনুষ্ঠানে জলদকণ্ঠে শ্রীশ্রী চণ্ডীপাঠ করেন শ্রীযুক্ত বাবু শুভ ব্যানার্জি। চণ্ডীর সুরধ্বনি ও বাদ্যযন্ত্রের মূর্ছনায় অনুষ্ঠানস্থলে এক স্বর্গীয় পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
শুভ মহালয়া উপলক্ষে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রবাসী শিল্পীরা সুরের ধারা তুলে ধরেন। প্রবাসী সনাতনী ঐক্য পরিষদের সাংস্কৃতিক সম্পাদক শিমুল দেবনাথের পরিচালনায় সংগীত পরিবেশন করেন— শ্রীমতি বনানী বোস, সুমনা দাস, শিপন কর্মকার, শিবলু দাস, মিতা সাহা, স্নিগ্ধা সরকার তিথী, অনামিকা সাহা, বৈশাখী মজুমদার, পূজা আইচ, পূর্ণিমা রানী শীল, লিপিকা রানী দেবী, তন্নী রানী দেবী, সুমি দে, সূচনা দে তাথই, শিমুল দেবনাথ, হৃদয় নাথ, রিন্টু কুমার নাথ এবং দেবদর্শন রুদ্র প্রতাপ সরকার।
শিল্পীদের সংগীতে যন্ত্রণসংগত করেন— তবলায় বাবু অজিত কুমার রায়, কি-বোর্ডে শিমুল দেবনাথ, গিটারে সঞ্জয় সরকার ও রওনক সরকার, ঢোলে বাপ্পারাজ নাথ, অক্টোপ্যাডে নোবেল দাস, তালবাদ্যে সুব্রত দাস এবং বেহালায় ওম সরকার।
উল্লেখ্য, আগামী ১৬ অক্টোবর ষষ্ঠীপূজার মাধ্যমে মূল দুর্গাপূজার সূচনা হতে যাচ্ছে। তবে মহালয়ার এই সূচনালগ্ন থেকেই শুরু হয়েছে উৎসবের আনন্দঘন মুহূর্ত। আরব আমিরাতের পাশাপাশি বাংলাদেশেও ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির, রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনসহ বিভিন্ন মণ্ডপে চণ্ডীপাঠ ও বিশেষ পূজার মাধ্যমে আড়ম্বরের সঙ্গে মহালয়া পালিত হচ্ছে।



