আজমানে জাঁকজমকপূর্ণভাবে উদযাপিত হচ্ছে শারদীয় দুর্গোৎসব
প্রবাসের যান্ত্রিকতা ভুলে মরুর বুকে বইছে আনন্দের জোয়ার
ঢাকের কাঠি ও ঢোলের সুমধুর আওয়াজে মুখরিত হয়ে উঠেছে মরুর বুক। প্রবাসের যান্ত্রিক ব্যস্ততা ও কর্মব্যাময় জীবনকে পেছনে ফেলে শারদীয় দুর্গোৎসবের আনন্দে মেতে উঠেছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতে বসবাসরত প্রবাসী সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। আমিরাতের আজমান প্রদেশে চতুর্থবারের মতো অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে শুরু হয়েছে এই সর্বজনীন দুর্গোৎসব।
আজমানের ‘প্রবাসী সনাতনী ঐক্য পরিষদ’-এর উদ্যোগে আয়োজিত এই ধর্মীয় উৎসবে প্রতিদিন দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। পূজা দর্শন এবং আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে আজমান ছাড়াও আমিরাতের বিভিন্ন দূর-দূরান্তের স্টেট থেকে ছুটে আসছেন হাজারো বাংলাদেশি প্রবাসী। আয়োজকদের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, এই পূজামণ্ডপে প্রতিদিন গড়ে অন্তত ১৫ হাজার দর্শনার্থী ও ভক্তের সমাগম ঘটছে।
উৎসবের আনন্দকে সার্বজনীন ও রূপময় করে তুলতে মণ্ডপের পাশে আয়োজন করা হয়েছে একটি রঙবেরঙের মেলা। পাশাপাশি ছোট শিশুদের বিনোদনের জন্যও রাখা হয়েছে নানা আকর্ষণীয় আয়োজন।
গত শুক্রবার মহাষষ্টীতে দেবী দুর্গার আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মধ্য দিয়ে মূল পূজার সূচনা হয়। এরপর থেকেই মুখর হয়ে উঠেছে পুরো মণ্ডপ প্রাঙ্গণ। আসছে বিজয়ী দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় এই ধর্মীয় উৎসব।

আজমান প্রদেশের উইনার স্পোর্টস ক্লাবে আয়োজিত এই দুর্গোৎসবের সার্বিক তত্ত্বাবধানে রয়েছে শীর্ষ সংগঠন ‘প্রবাসী সনাতনী ঐক্য পরিষদ’। সংগঠনের সভাপতি বাবু অজিত কুমার রায়ের নেতৃত্বে পর্ষদের সকল নেতৃবৃন্দ প্রতিদিন অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে আমন্ত্রিত অতিথি ও ভক্তদের স্বাগতম জানাচ্ছেন।
আয়োজকদের মতে, প্রবাসের মাটিতে নিজ সংস্কৃতির এই সুমহান চর্চা ও মিলনমেলা নতুন প্রজন্মকে নিজেদের শেকড়ের সাথে যুক্ত রাখতে এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্য বৃদ্ধিতে এক অনন্য ভূমিকা পালন করছে।


