জুয়েল সাদত

আর যাই হউক ডিসি সারোয়ার আলম যে একজন ডিস্ট্রিক্ট কমিশনার ছিলেন এটা প্রমানিত৷ অন্য ৬৩ জেলার ডিসিরা এসি রুমে বসে সাইন করেন।।
যে সরকার বলেছিল, আমরা পরিবর্তন আনব, তারা কোন পরিবর্তন আনতে পারে নাই৷ সারোয়ার আলম গত ১০ মাসে যে কাজগুলো করেছেন, তা ছিল কল্পনার বাহিরে৷ একজন প্রবাসী হিসাবে আমি মর্মাহত, তিনি একটি বৃহদ প্রবাসী সিটি বানানোর পরিকল্পনা করেছিলেন।।
বানিজ্য মন্ত্রী খন্দকার মোক্তাদির সাহেবের লোকজন জড়িত থাকার গুঞ্জন থাকলেও উনার ই লাভ বেশী হত৷ আরও তিনটা বছর সারোয়ার সাহেব থাকলে সিলেটের চেহারা পাল্টে যেত।। লোকাল এম পি বাহাবা পেতেন।।
বিএনপির একটি অংশ একজন বিএনপি ঘরানার ডিসি খুজতেছিলেন৷ কারন ডিসি অফিসে কেউ সুবিধা করতে পারছিলেন না।
অনেকে সোস্যাল মিডিয়ায়, সারোয়ার আলমের অনিয়ম খুজার চেষ্টা করছেন৷ তারা ঐ মাজারের টাকা লুটেরাদের পক্ষে আছেন৷। দু:খ লাগে, যারা সাদাকে সাদা বলতে পারেন না। কেউ কেউ সারোয়ার আলম কে জামায়াত বানানোর চেষ্টা করছেন ৷ তিনি গুপ্ত জামায়াত হলেও যদি ভাল কাজ করেন অসুবিধা কোথায়৷
অনেকে ৭০০ বছর থেকে যারা মাজারের টাকা ডাকাতি করছে,তাদের সাফাই গাইছেন৷।
এই বিষয়ে আজ, আর লিখব না।। সবাই জানেন৷। শুধু এটাই মাজারের টাকা যারা খেয়েছেন, তারা বমি করবেন৷
তওবা করবেন৷ অনুশোচনা করবেন।। প্রকাশ্য দিবালোকে মাফ চাইবেন৷ পারলে কিছু কিছু করে ফেরত দিবেন।।
আর যারা ডিসিকে সরিয়েছেন, হবিগঞ্জ থেকে লবিং করে, তাদের সবার নাম একদিন প্রকাশ হবে৷। যেমন ইউনুস সরকারের সব অপকর্ম সবাই জানে৷।
কেন? এত তাড়াহুড়ো করে বদলি করা হল, এই কুকর্মে যারা জড়িত এদের ছবি আসবে।। সার্কিট হাউসে কেন ডিসি দায়িত্ব হস্তান্তর করলেন।।
( ২) আজকের প্রসঙ্গ ভিন্ন৷ সিলেট যখন মাজার নিয়ে ব্যাস্ত ঢাকায় তখন কুটনৈতিক পাড়ায় অন্য সমিকরন চলছে।। বাংলাদেশের জঙ্গি উত্থান এর রিপোর্ট আমেরিকার হাতে।। মোসাদ,আসাদ,ইসলামি স্টেট, বিতর্কিত পতাকার মিছিল, বাংলাদেশের জন্য বিপদ ঢেকে এনেছে৷ শত শত বিতর্কিত পাতাকার জঙ্গি মিছল হল বাংলাদেশে।।
একজন মন্ত্রী আমির খছরুর বাসায় আমেরিকার রাষ্ট্রদূত যান, সেখানে প্রধান মন্ত্রীকে ঢেকে পাঠানো হয়৷
বন্ধের দিন আমেরিকার রাস্ট্রদুত সচিবালয়ে যান,আমেরিকাকে সাপোর্ট করতে বলা হয়।। চীনের সাথে সম্পর্কে না জড়াতে বলা হয়।। তারপরও জনাব তারেক রহমান চীন গেলেন।।
কোথাকার পানি কোথায় যায়, যাচ্ছে। অনেকেই জানে না।। জানতে পারবে না।। সরকার এর পায়ের নীচে মাটি নড়বড়ে।।
সরকারের কুটনেতিক মুভমেন্ট ভাল চোখে নিচ্ছে না আমেরিকা।।
বিদেশী খলিলুর রহমান ও বিদেশী হুমায়ুন কবির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে। অযোগ্যতা এবং অদুরদর্শী কূটনীতিক চালে তারেক রহমানকে ডুবাবে।
বাংলাদেশের ভেতর একটি জনগোষ্ঠীর উত্থান আমেরিকার চোখে খারাপ বার্তা দিচ্ছে।।
বিরোধীদল, কে আমেরিকা পছন্দ করে না৷ এরা দুদলই ২০০১ -২০০৬ এক সাথে ছিল৷ সেই সময় জঙ্গি উত্থানে রেকর্ড ছিল৷ আমেরিকা বাংলাদেশ কে নানা চাপে রেখেছে৷ সেনাবাহিনীকে এই মুহুর্তে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে৷ ওয়াকার উজ্জামান বেশ বিপদে আছেন।
( ৩) অদৃশ্য আওয়ামী লীগ।
আওয়ামী লীগ আছে হাওয়ায়, বাতাসে। অনেকের মত সরকার মনে করে, আবার করে না।
২৩ জুন ছিল, দলের প্রতিষ্টাবার্ষিকী। কোন কর্মসুচি নাই। কর্মসুচি দিয়েছিল, জামায়াত।। তারা নিজ উদ্যেগে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্টাবার্ষিকী পালনের জন্য ৩২ নাম্বারে গেল, সেখানে সাংবাদিকদের পেটালো৷ তাদের হাতে কোন ইস্যু নাই।। জুলাই, হাদি এখন জনগন খায় না।।
যাক, সরকার এমন ভয় পাইল, ১৪০০০ হাজার পুলিশ নামাল “হাওয়ার আওয়ামী লীগ” দমন করতে৷
৬ জেলায় সেনাবাহিনী নামালো।। বিষয়টা অনেকে বুঝেন নাই৷ কত শক্তিশালী আওয়ামী লীগ বুঝেন৷। সরকার জয় বাংলা বললে এরেস্ট করে, সেখানে সেনাবাহিনী দিল।।
২১৩ টা সিটের দলের গত ৪ মাসের দেউলিয়াত্বের নজির।।। আজ দেখলাম প্রিজন ভ্যানের ভেতর শ্লোগান দিচ্ছে মুজিব ভক্তরা৷
(৪) ৫ আগস্টের পর, আমরা ভেবেছিলাম বাংলাদেশের মানুষ বেহেস্তকে স্পর্শ করবে ৷ আইনের শাসন আসবে, ভাল নির্বাচন হবে। জবাবদিহিতা আসবে, ফ্যাসিজম থাকবে না৷ নেতারা নির্লোভ হবেন, পুলিশরা সঠিক কাজ করবে, উন্নয়ন হবে।।
ডক্টর ইউনুস ১৬ হাজার কোটি টাকা লুপাট করেছে৷ ২০২৪ এর পর সুইস ব্যাংকে টাকা বেড়েছে। নতুন সরকারের কেউ ইউনুস সরকারের লুটপাটের কথা বলে না৷ উপদেষ্টা দের বিরুদ্ধে মামলা নেয় না৷ সংসদে যা আলোচনা হয়, তা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় না।। আমেরিকার সাথে চুক্তির বিষয়ে কথা হয় না৷। শেখ হাসিনার সরকারের পর দৃশ্যমান কোন পরিবর্তন নাই৷। কেউ একটা জরিপ চালালে বুঝবে আমি যা বলতে চাচ্ছি।
সাধারন মানুষের কোন জীবনের পরিবর্তন আসে নাই। লাখ লাখ নিরপরাধ মানুষ জেল খাটছে ২ বছর বিনা বিচারে।। এটা সুশাসন নয়, এটা প্রতিহিংসা৷ ভুয়া মামলা লাখ লাখ, ১ মামলায় ৬০০ আসামী। এটা কুশাসন৷
বিটিভি আয় করে ৭ কোটি, ব্যয় ৫৬০ কোটি৷ এরকম বিষয়কে পরিবর্তন বলে না৷ তারেক রহমানের ১৮০ দিনের টার্গেটের ১২৮ দিন চলে গেছে, কোন দৃশ্যমান পরিবর্তন নাই৷ উল্টো মাঠি কেটে নিয়ে যাচ্ছে মেট্রোরেলের।। আর কৃত্রিম খাল কেটে সরকার কর্মসুচি করে।।
উপসংহার :। এক অদৃশ্য শক্তির নিকট সরকার জিম্মি। আমরা তারেক রহমানের নিকট ভরসা করতে চাই। তিনি মন্ত্রী সভা কমাবেন। শাহে আলম নামের উনার বন্ধু মন্ত্রী কে অপসারন করবেন৷ এই মন্ত্রী উনার ছেলেদের নামে ইউনিয়ন এর নাম দেন৷।
তারেক রহমান সঠিক ভাবে দেশ চালাবেন, সুশাসন নিশ্চিত করবেন।
চীন আমেরিকা ভারত রাশিয়া বিষয়টা বুঝবেন৷
তারেক রহমানের সংকুচিত বাজেটের জন্য অর্থ মন্ত্রী ও প্রধান মন্ত্রী কে ধন্যবাদ৷
অনুরোধ ইতিহাস বিকৃত করবেন না। তোষামোদ না করতে বলবেন।।
আওয়ামী লীগের যারা দুষ্কৃতকারী বা প্রমানিত অপরাধী তাদের বিচার করুন, কঠিন সাজা দেন।।
নিরপরাধীদের মুক্তি দেন। যারা বিদেশে আছেন ভুয়া মামলায় তারা দেশে আসার সুযোগ দেন৷ তারা আত্মসমর্পণ করুক, জামিন পাক৷
এটাই সুশাসন। এটাই ভাল সরকার। এটাই নাগরিকদের দাবী৷। আদালত পাড়ায় কান্না থাকবে না।। ভালবাসা দিয়ে জয় করত হবে নাগরিকদের।।
-
/জুয়েল সাদত / রাজনৈতিক বিশ্লেষক।। usa


