কুরবানীর ইতিকথা ও শিক্ষা

প্রকাশিত: ২:৪১ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৫, ২০২০ 374 views
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
কুরবানীর সংজ্ঞাঃ বাংলা ভাষায় ‘কুরবানী’ শব্দের যে প্রচলন রয়েছে তার মূল উৎপত্তিস্থল হচ্ছে আরবী।
 
সূরা মায়েদার ২৭ নং আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন-
إِذْ قَرَّبَا قُرْبَانًا فَتُقُبِّلَ مِنْ أَحَدِهِمَا وَلَمْ يُتَقَبَّلْ مِنَ ٱلْا’خَرِ…
 
“কুরবানী” শব্দটি কুরবুন (قرب) মূলধাতু থেকে উৎকলিত। যার অর্থঃ নৈকট্য, সান্নিধ্য, উৎসর্গ ইত্যাদি। মাআরেফুল কুরআনে “কুরবান” শব্দের আভিধানিক অর্থ করেছেন- যে বস্তু কারও নৈকট্য লাভের উপায় হিসেবে ব্যবহৃত হয় তাকে কুরবান বলে।
 
শরীয়তের পরিভাষায় “কুরবান” ঐ জন্তুকে বলা হয় যাকে ১০ জিলহজ হতে ১২ জিলহজ সন্ধ্যা পর্যন্ত নির্দিষ্ট পশু নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য জবেহ করা হয়।
 
কুরবানীর ইতিহাসঃ কুরবানী ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ বিধান ও বিশেষ ইবাদত। এর বিধান আদি পিতা হযরত আদম (আ.) এর যুগ থেকে অদ্যাবধি চলে আসছে।
 
আল্লাহ তা’আলা বলেন ” হে নবী! আপনি তাদেরকে আদমের দুই পুত্রের বাস্তব অবস্থা পাঠ করে শুনান। যখন তারা উভয়ে কিছু কুরবানী পেশ করেছিল, তখন একজনের কুরবানী গৃহীত হলো। কিন্তু অপরজনের কুরবানী গৃহীত হয়নি”…। (সূরা মায়েদা : ২৭)
 
অন্য আয়াতে বলেন, “আমি প্রত্যেক সম্প্রদায়ের জন্যে কুরবানীকে নির্ধারণ করেছি। যাতে তারা আল্লাহর দেয়া চতুষ্পদ জন্তু জবাই করার সময় তারা আল্লাহর নাম উচ্চারণ করে”…। (সূরা-হজ্ব : ৩৪)
 
উপরোক্ত আয়াতদ্বয় থেকে একথার প্রমান মিলে যে, আমাদের শরীয়তের পুর্বেকার নবী-রাসূলগনের শরীয়তেও কুরবানীর ইবাদত ছিল একটি অপরিহার্য অংশ। তবে প্রত্যেক নবীর শরীয়তে কুরবানীর রীতিপদ্ধতি এক ছিল না। আমরা যদি হযরত আদম আ. এর দুই পুত্র হাবিল ও কাবিলের কুরবানীর যে ঘটনা সংগঠিত হয়েছে তার প্রতি লক্ষ করি তাহলে বিষয়টা পরিস্কার হবে।
 
ঘটনাটি ছিল এরকম- হাবিল ভেড়া, দুম্বা ইত্যাদি পশু পালন করত, সে তার পশুপাল থেকে একটি উৎকৃষ্ট দুম্বা কুরবানীর উদ্দেশ্যে পাহাড়ের চুড়ায় রেখে দিল। কাবিল কৃষিকাজ করত, তাই সে কিছু শস্য গম ইত্যাদি কুরবানীর উদ্দেশ্যে তথায় হাজির করল। অতঃপর তাদের নিয়মানুযায়ী আকাশ থেকে অগ্নিশিখা অবতরণ করে আন্তরিকতা ও উদ্দেশ্যের সততার কারণে হাবিলের কুরবানীটি ভস্মীভূত করে দিল। কিন্তু নিষ্ঠার অভাব ও অমনোযোগীতার কারনে কাবিলের কুরবানী যেমন ছিল তেমনই পড়ে রইল। দেখুন এই ঘটনা থেকে এটা পরিস্কার যে তৎকালে কুরবানীর পদ্ধতি ছিল কারো কুরবানী গৃহীত হলে আকাশ থেকে অগ্নিশিখা এসে কুরবানীকে ভস্মীভূত করে আবার অন্তর্হিত হয়ে যেত। পক্ষান্তরে যার কুরবানীকে অগ্নিশিখা ভস্মীভূত করত না তাকে অগ্রহনযোগ্য মনে করা হত। এবং তাদের শরীয়তে কুরবানীর জন্য শুধু পশু দিতে হবে তা নয় বরং অন্যান্য বস্তু দিয়েও কুরবানী দেওয়া যেত। কিন্তু উম্মতে মুহাম্মদির উপর কুরবানীর যে পদ্ধতি নির্দেশিত হয়ছে তার মূল সূত্র মিল্লাতে ইব্রাহীমিতে বিদ্বমান ছিল। যা কুরআন মাজীদ ও সহীহ হাদিস থেকে জানা যায়। এজন্য কুরবানীকে সুন্নাতে ইব্রাহীম বলেও অভিহিত করা হয়।
 
কুরবানীর ইতিহাসে হযরত ইবরাহীম (আঃ) -এর সর্বোৎকৃষ্ট ত্যাগ এবং হযরত ইসমাঈল (আঃ) -এর আত্মোৎসর্গ আল্লাহর কাছে এতই পছন্দনীয় হল যে, তিনি ইব্রাহীম (আঃ) কে আপন বন্ধু রুপে গ্রহণ করলেন এবং তাকে মুসলিম জাতির পিতার আসনে অভিষিক্ত করলেন। শুধু এগুলো করেই ক্ষান্ত হননি, বরং ছেলে ইসমাঈল (আঃ) -এর পবিত্র বংশধারায় সর্বশেষ এবং সর্বশ্রেষ্ঠ নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) -এর উত্থান ঘটালেন। মহান আল্লাহ তা’য়ালা হযরত ইবরাহীম (আঃ) ও হযরত ইসমাঈল (আঃ) এর ত্যাগের ইতিহাসকে চিরঞ্জীব করে রাখার জন্য সর্বকালের সচ্ছল মানুষদের জন্য কুরবানীকে বাধ্যতামূলক করে দিলেন।
 
কুরবানীর শিক্ষাঃ আমাদের জীবন, ধন-সম্পদ প্রভৃতি মহান আল্লাহর দান। তাই মহান রবের জন্য আমাদের প্রিয় বস্তুকে উৎসর্গ করতে পারাই কুরবানির শিক্ষা। যেমনটি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ’লা হযরত ইবরাহীম ও ইসমাঈল আ. এর ঐতিহাসিক ঘটনা দ্বারা মানব জাতিকে শিক্ষা দিয়েছে। এছাড়াও কোরবানির মাধ্যমে আল্লাহর কাছে বান্দার গোলামি প্রকাশ পায়, প্রভুর জন্য বান্দার ভালোবাসা ও ত্যাগের মাত্রা নির্ণীত হয়। আল্লাহর দান আল্লাহকে ফিরিয়ে দিতে আমরা কতটা প্রস্তুত, তারই একটি ক্ষুদ্র পরীক্ষা হলো কুরবানি। মহান আল্লাহ তাআ’লা নবী সা. কে উদ্দেশ্য করে বলেন- “হে নবী! আপনি বলুন আমার নামাজ, আমার কোরবানি, আমার জীবন ও মরন বিশ্বপ্রতিপালক আল্লাহরই জন্য” (সূরা আনআম-১৬২)। মূলত আমাদের জীবন ও সম্পদের মালিক আল্লাহ তাআ’লা । এই উভয় জিনিস আল্লাহর ইচ্ছানুযায়ী ব্যয় করাই ঈমানের অপরিহার্য দাবি এবং জান্নাত লাভের পূর্বশর্ত। মহান আল্লাহ তাআ’লা (সূরা তওবা-১১০ নং আয়াতে) বলেন, “নিশ্চয়ই আল্লাহ মুমিনের জীবন ও সম্পদ জান্নাতের বিনিময়ে কিনে নিয়েছেন”। কাজেই জীবন-সম্পদ আল্লাহর এবং তা আমাদের কাছে আমানত। মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে এবং তার পছন্দনীয় পথে ব্যয় করাই ঈমানের দাবি। কুরবানি মানুষকে ঈমানের এ দাবি পূরণে উপযুক্ত হয়ে গড়ে উঠতে সাহায্য করে।
 
কুরবানীর ক্ষেত্রে আমরা সাধারণত যে ভুল করে থাকিঃ
 
১| জবাইয়ে একাধিক ব্যক্তি!
 
অনেক সময় দেখা যায় পশু জবাইয়ের ক্ষেত্রে একাধিক ব্যক্তি শরীক হয়। যেমন প্রথমে একজন জবাইকারী জবাই সম্পন্ন করতে পারে না, তখন কসাই বা অন্য কেউ জবাই সম্পন্ন করে থাকে। এক্ষেত্রে শরীয়তের নির্দেশ হল- অবশ্যই উভয়কে নিজ নিজ যবাইয়ের পুর্বে ‘বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার’ পড়তে হবে। যদি কোনো একজন না পড়ে তবে ওই কুরবানী সহীহ হবে না এবং জবাইকৃত পশুও হালাল হবে না। তাই খুব সতর্কতা অবলম্বন করে পশু জবাই করা এবং এধরনের ভুল থেকে বেঁচে থাকা জরুরি।
 
২| কুরবানীর নিয়তের ক্ষেত্রে যে ভুল হয়ে থাকে!
 
কুরবানীর পশু খরিদ করার সময় আমাদের মাথায় নানারকম চিন্তা-ভাবনার উদয় হয়। যেমন: আমি যদি এই পশুটি ক্রয় করি তাহলে গ্রামের লোকেরা আমাকে বাহবা দিবে। গ্রামের মধ্যে সবচেয়ে বড় কুরবানী আমার হবে। অথবা ঐ পশুর গোশত বেশি হবে ইত্যাদি। এক্ষেত্রে যদি আমরা আল্লাহ তাআলার হুকুম পালনের উদ্দেশ্যে কুরবানী না করে শুধু গোশত খাওয়া, গ্রামের বড় কুরবানী দাতা হওয়া, লোকের বাহবা পাওয়া ইত্যাদি নিয়তে কুরবানী করি তাহলে আমাদের কুরবানী সহীহ হবে না। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআ’লা বলেন- “এগুলোর (কুরবানীর পশুর) গোশত ও রক্ত আল্লাহর কাছে পৌঁছে না, কিন্তু তাঁর (আল্লাহর) কাছে পৌঁছে তোমাদের মনের তাকওয়া”…। ( সূরা: হজ্ব- ৩৭) অতএব আমাদের নিয়ত হতে হবে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন ও তাঁর হুকুম পালন।
 
৩| অংশীদার নির্বাচনের ক্ষেত্রে ভুল!
 
একটি ছাগল, ভেড়া বা দুম্বা দ্বারা শুধু একজনই কুরবানী দিতে পারবে। আর একটি গরু, উট, মহিষে সর্বোচ্চ সাত জন শরীক হতে পারবে। এর অধিক কাউকে শরীক করা জায়িয নয়।
আমরা যদি শরিকানার ভিত্তিতে কুরবানী করার নিয়ত করে থাকি, তাহলে অবশ্যই আমাদেরকে এমন একজন অংশীদার নির্বাচন করতে হবে যার উপার্জন সম্পুর্ণ হালাল। যদি সাত শরিকের কোন একজনের উপার্জন আংশিক বা পুরোটা হারাম হয়, অথবা কারো নিয়তে গড়বড় থাকে তাহলে অন্যান্য শরিকদেরও কুরবানী সহীহ হবেনা। যদিও তাদের নিয়ত বা উপার্জন হালাল হয়।
তাই অত্যন্ত সতর্কতার সাথে শরীক নির্বাচন করা জরুরী ।
 
৪| শরীকদের মধ্যে গোশত বন্টন!
 
অনেকেই অংশীদার নির্বাচন করে কুরবানী দিয়ে থাকে। অংশীদার নির্বাচন করা তো জায়িয আছে। কিন্তু যখন এই অংশীদারকে গোশত বন্টন করে দেওয়া হয় তখন অনেকেই মাসআলা সম্পর্কে জ্ঞান না থাকার কারনে অনুমান করে দিয়ে থাকে যা নিতান্তই ভুল এবং নাজায়েয। কারন শরিয়তের দাবী হল সকল অংশীদারদের গোশত সমান ভাগে ভাগ হওয়া। তাই উচিৎ হলো ওযন করে গোশত বন্টন করে নেওয়া।
 
৫| কুরবানীর পশু থেকে উপকৃত হওয়া!
 
আমরা অনেকেই কুরবানীর পশু ক্রয় করার পর বা নির্দিষ্ট করার পর তা দ্বারা উপকৃত হয়ে থাকি। যেমন হালচাষ করা, তাতে আরোহন করা, পশম কাটা, দুধ পান করা ইত্যাদি। কুরবানীর পশু দ্বারা উপকৃত হওয়া নাজায়িয। যদি কারো এরকম হয়ে যায় তাহলে হালচাষের মূল্য, পশমের মূল্য, দুধের মূল্য ইত্যাদি সদকা করে দিতে হবে।
 
এখানে আরেকটি বিষয় রয়েছে যার ব্যাপক প্রচলন আমাদের দেশে সাধারণ লোকদের মধ্যে পরিলক্ষিত হয়। আর তা হল কুরবানীর পশুর চামড়া, গোশত ইত্যাদি পারিশ্রমিক হিশেবে কসাইকে বা অন্য কাউকে দেওয়া হয় যা শরীয়তের মধ্যে নিষিদ্ধ এবং নাজায়িয।
 
উপরোক্ত যে কয়টি ভুল বা অসতর্কতা উল্লেখ করা হয়েছে তার ব্যাপক প্রচলন রয়েছে আমাদের সমাজে। এর প্রত্যেকটি শরীয়ত মোতাবেক জায়েয নয়। তাই এই সমস্ত ক্রিয়াকলাপ থেকে বেঁচে থাকা খুবই জরুরী।
 
গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি আমল।
 
১| কুরবানীর এই মাসে ৯-জিলহজ্ব ফজর থেকে শুরু করে ১৩-জিলহজ্ব আসর পর্যন্ত মোট ২৩ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের পর উচ্চস্বরে একবার তাকবীরে-তাশরীক বলা ওয়াজিব। নামাজ জামাতে হোক বা একাকী সর্বাবস্থায় নারী-পূরুষ সকলে বলতে হবে।
তাকবীরে-তাশরীক হলো :-
ﺃَﻟﻠّٰﻪُ ﺃَﻛْﺒَﺮُ ﺃَﻟﻠّٰﻪُ ﺃَﻛْﺒَﺮُ ﻟَﺎ ﺇِﻟٰﻪَ ﺇﻟَّﺎ ﺍﻟﻠّٰﻪُ ﻭَﺍﻟﻠّٰﻪُ ﺃَﻛْﺒَﺮُ ﺃَﻟﻠّٰﻪُ ﺃَﻛْﺒَﺮُ ﻭَﻟِﻠّٰﻪِ ﺍﻟْﺤَﻤْﺪُ
 
২| আরাফার দিন, অর্থাৎ ৯ জিলহজ নফল রোজা রাখা মুস্তাহাব। তবে আরাফায় উপস্থিত হাজি সাহেবদের জন্য এই রোজা প্রযোজ্য নয়। হজরত আবু কাতাদা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, “আরাফার দিনের রোজার ব্যাপারে আমি আশাবাদী যে আল্লাহ তাআলা তার (রোজাদারের) বিগত এক বছরের ও সামনের এক বছরের গুনাহ মাফ করে দেবেন” (তিরমিজি, খণ্ড-১, পৃষ্ঠা: ১৫৭)।
 
ঈদুল আযহার দিনে যে সমস্ত সুন্নাত রয়েছে, সেগুলোও আমরা খেয়াল করে আমল করা উচিত ।
 
ঈদুল আযহার দিনে বিশেষ কয়েকটি সুন্নাত নিম্নরুপঃ
১. খুব ভোরে ঘুম থেকে ওঠা।
২. মেসওয়াক করা।
৩. গোসল করা।
৪. যথা সাধ্য উত্তম পোশাক পরিধান করা।
৫. খুশবূ লাগানো।
৬. ঈদগাহে যাওয়ার পূর্বে কোন কিছু না খাওয়া।
৭. আগে আগে ঈদগাহে যাওয়া।
৮. পায়ে হেটে ঈদগাহে যাওয়া।
৯. যাওয়ার সময় এই তাকবীর উচ্চস্বরে পড়তে থাকা-
ﺃَﻟﻠّٰﻪُ ﺃَﻛْﺒَﺮُ ﺃَﻟﻠّٰﻪُ ﺃَﻛْﺒَﺮُ ﻟَﺎ ﺇِﻟٰﻪَ ﺇﻟَّﺎ ﺍﻟﻠّٰﻪُ ﻭَﺍﻟﻠّٰﻪُ ﺃَﻛْﺒَﺮُ ﺃَﻟﻠّٰﻪُ ﺃَﻛْﺒَﺮُ ﻭَﻟِﻠّٰﻪِ ﺍﻟْﺤَﻤْﺪ
১০. ঈদুল আযহার নামায সকাল সকাল পড়া।
১১. এক রাস্তায় যাওয়া, অন্য রাস্তা দিয়ে প্রত্যাবর্তন করা।
 
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা আমাদের সব কিছু সহীহভাবে আমল করার তাওফীক দিন এবং কোরবানির মাধ্যমে ক্রোধ, হিংসা, বিদ্বেষ, শত্রুতা ইত্যাদি পশুত্বকে দমন করে সমাজে শান্তির সুবাতাস ছড়িয়ে দিন, আমীন!