দুবাইয়ে তিনদিনব্যাপি বিজয় উৎসব ও বইমেলার উদ্ভোধন

আমিনুল হক আমিনুল হক

বায়ান্ন টিভি

প্রকাশিত: ১:৪২ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১৬, ২০২৩ 259 views
শেয়ার করুন

বইমেলা আমাদের আবেগিত মনের অনুভূতি আদান-প্রদানের মেলা। আমাদের মস্তিস্কে জ্ঞানের বিনিময় ঘটে বইয়ের মাধ্যমে। বইপড়া ব্যতীত জ্ঞানার্জনের সঠিক পথ নেই। তাই জ্ঞানার্জনের ক্ষেত্রে বইয়ের ভূমিকা অপরিসীম। যে জাতি যত শিক্ষিত, সেই জাতি তত উন্নত। আর শিক্ষার জন্য বই-ই আলোকিত জগতের দিশারী। যেকোনো জাতির জন্য অত্যন্ত গুরত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়। বইয়ের সাথে মানুষের সম্পর্ক যত নিবিড় ও ঘনিষ্টতর হবে, সেই মানুষ তত উন্নত চিত্তের অধিকারী হবে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাণিজ্যিক রাজধানী দুবাইয়ে জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো তিন দিনব্যাপী বিজয় উৎসব ও বাংলাদেশ বইমেলার উদ্ভোধনী অনুষ্ঠানে এসব বলেন বক্তারা।

শুক্রবার (১৫ই ডিসেম্বর) বাংলাদেশ কনসুলেট জেনারেল দুবাই ও উত্তর আমিরাতের প্রাঙ্গণে বিকাল ৫টায় মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।

বাংলাদেশের প্রখ্যাত লেখক শিহাব শাহরিয়ার ও বাংলাদেশ কনস্যুলেট দুবাইয়ের কমার্শিয়াল কাউন্সিলার আশিষ কুমার সরকারের যৌথ সঞ্চালনায় বইমেলার উদ্বোধন করেন শিক্ষাবিদ ও লেখক ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম।

বাংলাদেশ এম্বেসী আবুধাবীর রাষ্ট্রদূত মুহাম্মদ আবু জাফরের সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ কন্সুল্যেট জেনারেল দুবাই ও উত্তর আমিরাতের কনসাল জেনারেল কবি বিএম জামাল হোসেন। অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত আমিরাতের রাষ্ট্রদূত আব্দুল্লাহ আলি আল হামুদি, কন্সুল্যেট জেনারেল অব ইন্ডিয়ার কন্সাল জেনারেল সাতিশ কুমার সিবান, আমিরাতের কবি ও সাহিত্যিক ইউসুফ আব লুজ প্রমুখ।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ, ভারত ছাড়াও আরব ও ইংরেজি সাহিত্যের বরেণ্য লেখকরা উপস্থিত ছিলেন। বর্তমানে প্রায় দশ লাখের বেশি প্রবাসী বাংলাদেশির বসবাসস্থল আমিরাত। এখানে দ্বিতীয়বারের মতো বাংলা বইমেলার স্বাদ পেতে দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে এসেছেন প্রবাসীরা। মেলার মূলমঞ্চে প্রথমদিনে ৪টি নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।

মেলায় ঢাকা থেকে ৩০টি প্রকাশনা সংস্থা অংশ নিয়েছে। এছাড়া নানা সামাজিক ও সাংস্কৃতিক এবং ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের মোট ৭০টি স্টল স্থান পেয়েছে। শনিবার ও রোববার মেলা প্রতিদিন বিকাল ৫টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত বইমেলা চলবে। প্রতিদিন সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং সাহিত্য বিষয়ক নানা সভা অনুষ্ঠিত হবে।

বইমেলায় অংশগ্রহণের জন্য বাংলাদেশ থেকে অংশগ্রহণ করেছে আগামী প্রকাশনী, অন্যপ্রকাশ, পুথিনিলয়, সময়, পাঞ্জেরী, জার্নিম্যান বুকস, পাঠক সামাবেশ, অনিন্দ্য, নালন্দা, ত্রয়ী, বাতিঘর, দি রয়েল পাবলিশার্স, ভাষাচিত্র, চারুলিপি, শব্দশৈলী, পরিবার পাবলিকেশন্স, অন্বয়, কিন্ডারবুকস, বর্ণ প্রকাশ লিমিটেড সহ আরো অনেক প্রকাশনী।

এদিকে প্রবাসের মাটিতে এমন সুযোগ পেয়ে নিজেদের পরিবারের সন্তানদের বাংলা বই পড়ার আনন্দ প্রকাশ করেছেন প্রবাসীরা। প্রবাসে বেড়ে ওঠা বাঙালি প্রজন্মকে বাংলাদেশের সঠিক ইতিহাস জানাতে এসব মেলার খুব প্রয়োজন। আগামীতে এই বই মেলার ধারাবাহিকতা রাখার আহ্বানও জানিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশীরা।