শিক্ষিত মধ্যবিত্তদের উদ্যোক্তা হওয়াটা খুবই প্রয়োজন

প্রকাশিত: ১:২৪ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২০, ২০২১ 150 views
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব হিসাবে মানুষের জন্য উত্তম পেশা হল ব্যবসা। ব্যবসা শব্দটি যত ছোটই হউক না কেন এর বিশালতা অনেক ব্যাপক ও বিস্তৃত। সাধারণ ভাবে ধরে নেয়া হয় ব্যবসায়ী অনেক স্বাধীন।
 
ব্যবসায়ী কারো কর্মচারী নয়, অন্যের নির্দেশ মানতে বাধ্যও নয়। তাহলে কিসের পরাধীনতা? সত্যি, ব্যবসায়ী অনেক স্বাধীন। ব্যবসায়িক পণ্য, উপাদান ও কায়কারবারগুলো বৈধ হতে হবে। কেননা, অবৈধ পণ্যের ব্যবসা ও অবৈধ কায়কারবারকে ইসলাম বৈধতা দেয় না। যেমন, মদ, জুয়া, সুদ, ঘুষ ইত্যাদির ব্যবসার সঙ্গে জড়িত হওয়া ইসলামে অনুমোদন নেই। কারণ, এসব বিষয়কে ইসলামে মৌলিকভাবেই হারাম ঘোষণা করা হয়েছে। দেশের অর্থনীতির চালিকা শক্তি জোরদার করার লক্ষ্যে মধ্যবিত্ত পরিবারের সদস্যদের উদ্যোক্তা হতে হবে। অর্থাৎ আমাদের বাস্তবতাই এমন, যেখানে একজন মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষের পক্ষে উদ্যোক্তা হওয়া কঠিন। সবাই যে চাকরির পেছনে ছোটেন,অনেক উন্নত দেশের মোট জনসংখ্যা আমাদের দেশের এই চাকরি প্রার্থীর সংখ্যার থেকে কম।
 
একটি চাকরি পাওয়ার জন্য কী অসুস্থ প্রতিযোগিতা! ব্যবসা করার জন্য অর্থ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সেটি হোক প্রাথমিক মূলধন কিংবা ব্যবসা চালিয়ে নেওয়ার অর্থ। দীর্ঘ মেয়াদে ব্যক্তিগত মূলধন কখনোই পর্যাপ্ত নয়। আপনি হয়তো মাথায় দুর্দান্ত একটা আইডিয়া নিয়ে বসে আছেন। আর গালে হাত দিয়ে ভাবছেন, যদি কোনো বিনিয়োগকারী আমার এই ব্যবসার জন্য বিনিয়োগ করতেন! ভাবনাটা কিন্তু একেবারে আকাশকুসুম নয়। তবে মধ্যবিত্ত উদ্যোক্তাদের বেলায় এটা চিন্তা করা অনেকাংশেই দুরূহ ব্যাপার, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে খুব সহজেই উদ্যোক্তা হওয়া যায়, যদি আপনার অর্থের জোগান থাকে। কিন্তুক আমাদের দেশের এমন কিছুই আইনের জটিলতা আছে। এই সব আইনের জটিলতা গুলি সরকার যদি সহজ করে দেন। তাহলে মধ্যবিত্ত পরিবারের অনেক উদ্যোক্তা বেরিয়ে আসবে।
 
কৃষি বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল চালিকা শক্তি। উৎপাদনশীলতা ও আয় বৃদ্ধি ও গ্রামীণ এলাকায় কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে বিশাল জনগোষ্ঠীর সমৃদ্ধির জন্য কৃষির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এখন নিশ্চয়ই আমারা চিন্তায় নিমজ্জিত উদ্যোক্তা হবো অর্থ পাবো কোথায়। টাকা নেই, আমাকে দ্বারা ব্যবসা হবে না, বিশ্বস্ত মানুষ পাব কই, আসলে উদ্যোক্তা হওয়ার মতো সাহস দেখাতে পারে খুব কম মানুষ। ঝুঁকি থাকবেই, তবে মনকে সেভাবেই গড়তে হবে। নিজেকে উদ্যোক্তা হিসেবে দেখতে হলে প্রথমেই প্রয়োজন মনের মাঝে সৃজনশীলতা, নেতৃত্বের ক্ষমতা এবং আকাঙ্ক্ষা গড়ে তোলা। কিছু কিছু বিষয় আছে যা উদ্যোক্তা মনটাকে শক্তিশালী করে। আজ যেনে নেওয়া যাক তেমন কয়েকটি বিষয়। কিছু শুরু করার আগে আসলে প্রথমেই অভিজ্ঞদের কথা শুনুন। কীভাবে ঝুঁকি নিয়েছেন তারা কীভাবে মোকাবিলা করেছেন সে সব গল্পগুলো মনের মাঝে গেঁথে ফেলুন। উদ্যোক্তা হলে ভালো হতো, একবার এমন ভেবেই বসে থাকলাম—তাহলে পথ কখনই সহজ হবে না। প্রতিদিন নিজের লক্ষ্যটি নিয়ে ভাবতে হবে। কাজের ফাঁকে হোক, গল্পের ছলে হোক সব সময় লক্ষ্যটি নিয়ে ভাবতে হবে। আলোচনা করতে হবে।
 
আপনি উদ্যোক্তা হতে চান কারণ আপনার একটি লক্ষ্য রয়েছে। প্রতিদিন এই লক্ষ্য নিয়ে ইতিবাচক চিন্তা করুন। নিজেই নিজেকে প্রেরণা দিন। সবার অর্থনৈতিক-সামাজিক স্বচ্ছলতা না থাকতে পারে, কিন্তু যখন তার একটা বড় স্বপ্ন আছে, তিনিও সফল উদ্যোক্তা হওয়ার সমান সম্ভাবনা এই আত্মবিশ্বাস মনে মাঝে ধারণ করেন। আপনার লালিত স্বপ্ন একদিন বাস্তবায়ন হবে। যদি আপনি শুরু থেকেই সততা ও নিষ্ঠার সাথেই আপনার যে কোন প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেন। একজন উদ্যোক্তা উচিৎ আমরা যেমন অন্যের কাজ থেকে শিখি তেমনি অন্যকে সাহায্য করার মনোভাবও একজন উদ্যোক্তার রাখতে হবে। অন্যকে সাহায্য করার মাধ্যমে একজন উদ্যোক্তার শিক্ষা আরও বাড়ে। এটি মনে রাখা প্রয়োজন। আপনি একজন ব্যবসায়ী আপনাকে অনেক খারাপ সময় অতিক্রম করতে হবে, তবেই সফল উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য এগুলো সহ্য করে কাজ করে যেতে হবে।
 
আপনার মনে হতে পারে, ব্যবসায়িক পরিকল্পনা ছাড়াও আপনি ব্যবসা শুরু করতে পারেন। কিন্তু আর্থিক ধারণা সমন্বিত একটি ব্যবসায়িক পরিকল্পনা আপনাকে এর গভীরে চিন্তা করার সুযোগ দেবে। এটা হবে আপনার ব্যবসায়ের জন্য একটি জীবন্ত সহায়িকা, যেটা আপনাকে গন্তব্যে পোঁছাতে সাহায্য করবে। এটা আপনার জন্য ভালো যে আপনার ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট ও ব্যবসায়িক ব্যাংক অ্যাকাউন্ট পৃথক রাখা। ব্যবসা করার ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও পেশাদারত্বের পরিচয় দেবেন।
 
ব্যবসা সফল হওয়ার আগ পর্যন্ত আপনার প্রধান মনোযোগের বিষয় হবে কিভাবে ব্যবসাকে সফল করবেন। দেশ-বিদেশের সকল ব্যবসায় উদ্যোক্তার জীবনী পাঠ করে দেখা যায় যে, তাদের বেশিরভাগি প্রথম জীবনে ক্ষুদ্র ব্যবসায় প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শুরু করেছিলেন। দৃঢ় মনােবল, কঠোর অধ্যবসায় ও কর্মপ্রচেষ্টার মাধ্যমে ধীরে ধীরে তারা বৃহৎ শিল্প প্রতিষ্ঠানের মালিক হয়েছেন।