২৩ অক্টোবর, ২০২১ | ৭ কার্তিক, ১৪২৮ | ১৬ রবিউল আউয়াল, ১৪৪৩
Logo

সিলেটের বিয়ানীবাজারে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ নজরদারি বাড়িয়েছে পুলিশ।

নিউজ ডেস্ক নিউজ ডেস্ক

বায়ান্ন টিভি

প্রকাশিত: ১২:৪১ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২১ 186 views
শেয়ার করুন
  • 5
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    5
    Shares

 

সিলেটের প্রবাসী অধ্যুষিত উপজেলা হচ্ছে বিয়ানীবাজার। এই অঞ্চলের অর্থনীতির সিংহভাগই প্রবাসের রেমিট্যান্সের উপর নির্ভরশীল।

উপজেলা পর্যায়ে দেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রায়ত্ত ও বাণিজ্যিক ব্যাংকের প্রায় অর্ধ শতাধিক শাখা থাকার কারণে ব্যাংকার ও ব্যাংকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীরা বিয়ানীবাজারকে ‘ব্যাংকের শহর’ বলে থাকেন।

সম্প্রতি এই শহরের ব্যাংকপাড়ায় পুলিশি নজরদারি কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। তাছাড়া বিভিন্ন ব্যাংকের শাখা ও বুথগুলোতে রাত্রীকালীন পুলিশি টহল টিমও বাড়ানো হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, গত ১২ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে সিলেটের ওসমানীনগর থানার একটি ব্যাংকের বুথে ডাকাতির ঘটনায় পুলিশ প্রশাসন এমন বাড়তি সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।

জানা গেছে, গত ১২ সেপ্টেম্বর রাত সোয়া ৩টার দিকে ওসমানীনগর থানার শেরপুর নতুন বাজারে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি) লিমিটেড ব্যাংকের এটিএম বুথের দায়িত্বরত সিকিউরিটি গার্ডকে মারপিট করে, তার হাত ও মুখ স্কচটেপ পেঁচিয়ে বেঁধে এটিএম মেশিনের সম্মুখ দরজা ও লক ভেঙে নগদ ২৪ লাখ ২৫ হাজার ৫০০ টাকা নিয়ে পালিয়ে যায় একদল ডাকাত। এই ঘটনার পর থেকে সিলেট জেলা পুলিশ প্রশাসনের সার্বিক নির্দেশনায় সিলেটের সকল থানা এলাকার বিভিন্ন ব্যাংকের শাখা ও বুথগুলোতে নজরদারি বাড়িয়েছে পুলিশ। তাছাড়া রাতের বেলায় নিয়মিত টহল ছাড়াও নিরাপত্তার স্বার্থে বিশেষ টহল অব্যাহত রেখেছে থানা পুলিশ। শুধুমাত্র রাত্রিকালীন টহলই নয়, ব্যাংকের শাখাগুলোতে কর্মরত নিরাপত্তাকর্মীদের নাম-পরিচয় সংগ্রহ থেকে শুরু করে নিরাপত্তাকর্মী, রাতের বেলা ব্যাংক ও বুথের পাশে আনাগোনাকারীদের গতিবিধিও লক্ষ্য রাখছে পুলিশ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ব্যাংকগুলোর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতের লক্ষ্যে সম্প্রতি সরকারি-বেসরকারি সবক’টি ব্যাংকের স্থানীয় শাখাসমূহের কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় করেছে বিয়ানীবাজার থানা পুলিশ।

সভায় ব্যাংক কর্মকর্তারা পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করলে থানা পুলিশের পক্ষ ব্যাংকগুলোর নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করা হয়। একইসাথে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে যেকোন ‘সন্দেহজক’ বিষয় কিংবা ঘটনা থানা পুলিশকে অবগত করার অনুরোধ জানানো হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি ব্যাংকের স্থানীয় শাখা ব্যবস্থাপক জানান, ওসমানীনগরে ইউসিবি ব্যাংকের বুথে ডাকাতি সংঘটিত হবার পর বিয়ানীবাজার থানা পুলিশ সতর্ক হয়েছে উঠেছে। তারা বিভিন্ন ব্যাংক শাখা ও বুথগুলোতে বিশেষ নজরদারি রাখছে। সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়ে দিন পাঁচেক আগে পুলিশ ও ব্যাংক কর্মকর্তাদের মতবিনিময়ও হয়েছে। তিনি থানা পুলিশের এমন ইতিবাচক মনোভাবের প্রশংসা করেন।

তবে পুলিশ প্রশাসনের দাবি, শুধুমাত্র বুথ ডাকাতির ঘটনাই নয়, সিলেট অঞ্চলে শীতকালে চুরি-ডাকাতির উপদ্রব অনেকাংশেই বেড়ে যায়।

সেকারণে এই ঋতুতে মানুষের জানমালের নিরাপত্তার শঙ্কা দেখা দেয়। এবার শীত মৌসুমে এসব অপরাধীদের ঠেকাতে সাদা পোশাকে এবং ভার্চুয়ালি নজরদারি বাড়ানোসহ নানা পদক্ষেপ গ্রহণসহ প্রযুক্তিগক বেশকিছু উদ্যোগ নিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।

এরই ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে গ্রামভিত্তিক জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা বলয় বাড়াতে বিশেষ নজরদারি বাড়িয়েছে পুলিশ। তাছাড়া পুলিশের পক্ষ থেকে যে কোনো জরুরি প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট থানা কিংবা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর সহযোগিতা নিতেও নাগরিকদের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে বিয়ানীবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিল্লোল রায় বলেন, সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যালোচনা ও ব্যাংকের নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং ব্যাংকের নিরাপত্তা কর্মীসহ অনেক বিষয় নিয়ে মতবিনিময় করা হয়েছে।

একই সাথে শীতকাল আসন্ন হওয়ায় পৌরসভাসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বিশেষ নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। সাধারণ মানুষের জানমাল রক্ষায় পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালনে অটুট রয়েছে। সারা রাত উপজেলাজুড়ে টহল দেন পুলিশ সদস্যরা।