আবুধাবিস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে জাতীয় শোক দিবস পালন

প্রকাশিত: ৯:২৪ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৫, ২০২১ 92 views
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

“বঙ্গবন্ধু আজীবন দেশের স্বাধীনতা আর এদেশের মানুষের জন্য ত্যাগ স্বীকার করে গেছেন আর তাকেই আজকের এই দিনে স্বপরিবারে নিষ্ঠুরতম হত্যাকাণ্ডের শিকার হতে হয়। এমন কলঙ্কময় ইতিহাস বিশ্বে আর কোথাও নেই। বঙ্গবন্ধুর প্রদর্শিত পথেই তাঁর স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে এগিয়ে যাচ্ছেন তাঁরই সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, উনার এই সম্পূর্ণ পরিকল্পনায় দৃঢ় বিশ্বাস আছে বলে জানান প্রবাসী বক্তারা। বঙ্গবন্ধুর জীবনাদর্শ ও জনমানুষের জন্য ত্যাগ ও সংগ্রামের চেতনা বুকে ধারণ করে জাতীয় উন্নয়নে অবদান রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা।

বাংলাদেশ দূতাবাস, আবুধাবিতে মান্যবর রাষ্ট্রদূত আবু জাফর মহোদয়ের সভাপতিত্বে যথাযোগ্য মর্যাদায় অত্যন্ত ভাবগম্ভীর পরিবেশে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৬ তম শাহাদতবার্ষিকী এবং জাতীয় শোক দিবস পালন করা হয়। বাংলাদেশ দূতাবাস ভবনে আয়োজিত আলোচনা অনুষ্ঠানে বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ, জনতা ব্যাংক ও বাংলাদেশ বিমানের কর্মকর্তাবৃন্দ, বাংলাদেশ স্কুলের উপদেষ্টা, বঙ্গবন্ধু পরিষদ ও বাংলাদেশ এসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার স্থানীয় প্রতিনিধিবৃন্দ এবং বাংলাদেশি কমিউনিটি এর গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশী উপস্থিত ছিলেন।


প্রত্যুষে দূতাবাস ও বাংলাদেশ ভবনে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত করণের মাধ্যমে জাতীয় শোক দিবসের কার্যক্রম শুরু হয়। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান-এঁর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে ১৫ই আগস্টের শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি জ্ঞাপন করেন মান্যবর রাষ্ট্রদূতসহ দূতাবাসের সকল কর্মকর্তা। এরপর, একে একে বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ, বাংলাদেশ মহিলা সমিতি, জনতা ব্যাংক, বাংলাদেশ বিমান, বাংলাদেশ স্কুল, বঙ্গবন্ধু পরিষদ ও বাংলাদেশ এসোসিয়েশনের পক্ষ হতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়, পাশাপাশি প্রবাসীগণও তাদের ব্যক্তিগত শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। অতঃপর পবিত্র কোরআন হতে তেলাওয়াত এবং ১৫ই আগস্ট ঘাতকদের বুলেটের আঘাতে শহীদ জাতির পিতা ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের স্মরণে ১ মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। নিরবতা শেষে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে প্রদত্ত মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মাননীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং মাননীয় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করেন দূতাবাসের কর্মকর্তাগণ।

 

 

 

 

পরবর্তীতে, ১৫ই আগস্টের পটভূমিতে নির্মিত প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শন করা হয়। দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের একটি বড় অংশ জুড়ে ছিল অংশগ্রহণকারী অতিথিবৃন্দের বঙ্গবন্ধুর জীবন ও দর্শনের উপর আলোচনা। আলোচনা পর্বে বক্তারা বাংলাদেশের স্বাধীকার আন্দোলন, স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ এবং বাঙালি জাতি গঠনে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্ব ও অবদানের কথা তুলে ধরেন।


মান্যবর রাষ্ট্রদূত মহোদয় তার বক্তব্যের শুরুতেই সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, বঙ্গবন্ধু নির্মমভাবে শহীদ হওয়ার পর গোটা বিশ্বের রাজনীতিক নেতাদের মধ্যে নেমে এসেছিল শোকের ছায়া। তিনি আরও বলেন, বাঙালির মহান নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান চিরঞ্জীব, তাঁর চেতনা অবিনশ্বর। জাতির পিতা চেয়েছিলেন ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বৈষম্যহীন সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠা করতে। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশ বিনির্মানে তাঁর সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে বাংলাদেশ ইতোমধ্যেই বিশ্বসভায় একটি উন্নয়নশীল, মর্যাদাবান জাতি হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। সারা বিশ্বে বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের রোল মডেল। বাঙালি জাতি কৃতজ্ঞচিত্তে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ‘মুজিববর্ষ’ পালন করছে। তিনি আরও বলেন, এই বিশ্ব মহামারির সময়েও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি দেশ ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের প্রশংসনীয় আর্থ-সামাজিক অগ্রগতি ও উন্নয়নের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে আশাবাদ ব্যক্ত করেন, বঙ্গবন্ধু কন্যার রূপকল্প ধরেই বিশ্ব পরিমণ্ডলে বাংলাদেশ একটি সুখী-সমৃদ্ধ উন্নত রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। প্রবাসে বেড়ে উঠা নতুন প্রজন্মের কাছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবন, আদর্শ ও দেশপ্রেম পৌঁছে দিতে তিনি উপস্থিত প্রবাসীদের প্রতি আহ্বান জানান, একই সাথে তিনি মন্তব্য করেন, মুজিব আদর্শে শানিত বাংলার আকাশ-বাতাস, জল-সমতল যা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মের কাছে বঙ্গবন্ধুর অবিনাশী চেতনা ও আদর্শ হিসেবে চির প্রবহমান থাকবে। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ এবং রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন দর্শনকে হৃদয়ে ধারণ করে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার কাজে নিবেদিত তাঁর সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ঐক্যবদ্ধভাবে সকলে সহযোগিতা করতে তিনি উদাত্ত আহবান জানান। সবশেষে, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ বঙ্গমাতা এবং ১৫ই আগস্ট ১৯৭৫ এর সকল শহীদদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। এছাড়া, জাতীয় শোক দিবস পালন উপলক্ষে আবুধাবি আমিরাতস্থ মোসাফফা অবস্থিত বাংলাদেশী নির্মাণ শ্রমিকদের শিবিরে দূতাবাসের পক্ষ থেকে দোয়া মাহফিল ও উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হয়।