পরীমনি-পিয়াসার অপকর্মের বিশাল নেটওয়ার্ক পাঁচজনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা আসছে— 

নিউজ ডেস্ক নিউজ ডেস্ক

বায়ান্ন টিভি

প্রকাশিত: ১:৫৮ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৯, ২০২১ 267 views
শেয়ার করুন
  • 42
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    42
    Shares

প্রভাবশালী ১৩ জনের বিষয়ে তথ্য * মোবাইল ফোনে কথোপকথনের রেকর্ড ও স্পর্শকাতর মুহূর্তের ছবি জব্দ * রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলেছে : সিআইডি

চিত্রনায়িকা পরীমনি ও মডেল পিয়াসার রাতের রঙ্গশালার নেটওয়ার্ক বিশাল। শোবিজের আলোচিত এ দুই তারকার অপকর্মে জড়িত সমাজের বিত্তশালী অন্তত ১৩ জন। এদের ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট তথ্য পেয়েছে তদন্ত সংস্থা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এর মধ্যে ৫ জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা আসছে। এ ব্যাপারে দাপ্তরিকপত্র জারি করে তা বিমানবন্দর ও দেশের সীমান্ত পয়েন্টগুলোতে পাঠানোর বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।

যে ১৩ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে তারা মাঝেমধ্যেই পরীমনি ও পিয়াসার রাতের আসরের অতিথি হতেন। তাদের নিয়ে যেতেন লংড্রাইভে। পরীমনি-পিয়াসার মাধ্যমে ফাঁদ পেতে সরকারি কর্মকর্তাদের দিয়ে বড় বড় কাজ বাগিয়ে নিতেন। এ কাজে পিয়াসার অধীনে ২০-২৫ জন অনিন্দ্য সুন্দরী তরুণী রয়েছেন। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে এদের সবার নাম বলেছেন পরীমনি ও পিয়াসা। এ দুই শোবিজ তারকার সঙ্গে এসব বিত্তশালীদের মোবাইল ফোনের কথোপকথনের রেকর্ড ও অনেক স্থিরচিত্র পেয়েছেন তদন্তসংশ্লিষ্টরা। এগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

 

 

এ ব্যাপারে সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি ওমর ফারুক বলেন-পরীমনি, পিয়াসা, মৌ, রাজসহ প্রত্যেককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। জব্দ করা আলামত সম্পর্কে জানতে চাওয়া হচ্ছে। তদন্তে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এ মুহূর্তে তা প্রকাশ করা যাচ্ছে না। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, গ্রেফতার ব্যক্তিদের প্রতারণা, অনৈতিক কার্যক্রম ও ব্ল্যাকমেইলিংয়ের মতো অপকর্মে জড়িত নানা পেশার অনেক নাম জানা গেছে। এসব যাচাই-বাছাই করে দেখা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদে তারা যাদের নাম বলেছে তাদের সশ্লিষ্টতা সম্পর্কে শতভাগ নিশ্চিত হওয়ার পরই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

এ বিষয়ে যুগান্তরের কথা হয় অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক পদমর্যাদার এক কর্মকর্তার সঙ্গে যিনি পরীমনি, পিয়াসা ও বিতর্কিত ব্যবসায়ী হেলেনা জাহাঙ্গীরের মামলার তদন্ত তদারকি করছেন। তিনি বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে পরীমনি, পিয়াসা ও নজরুল রাজ প্রভাবশালী যেসব ব্যক্তির অন্ধকার জীবনের উপাখ্যান তুলে ধরে যে তথ্য দিচ্ছেন তা বিস্ময়ে হতবাক হওয়ার মতো। কারণ সমাজের নামকরা এসব ব্যক্তি স্বনামধন্য। বাইরে থেকে দেখে তাদের নৈতিকস্খলনের ভয়াবহ এসব বিষয় বোঝার উপায় নেই। তবে পরীমনি ও পিয়াসার দেওয়া তথ্যগুলো খুবই স্পর্শকাতর হওয়ায় সতর্কতার সঙ্গে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত হতে এদের সিআইডি কার্যালয়ে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

 

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, যাদের বিরুদ্ধে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি হতে যাচ্ছে এদের দুজন বেসরকারি দুটি ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, একজন মিডিয়া হাউজের মালিক, একজন জুয়েলারি ব্যবসায়ী ও একজন প্রতিষ্ঠিত একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কর্ণধার। রঙ্গশালাঘনিষ্ঠ অন্যদের মধ্যে নাম এসেছে ব্যাংক, বিমা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বহুজাতিক কোম্পানি ও দেশের শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি শিল্প গ্রুপের মালিক ও তাদের বখে যাওয়া সন্তানের। পরীমনি ও পিয়াসার সঙ্গে এদের মোবাইল ফোনে কথোপকথনের রেকর্ড যেমন তদন্তকারীদের হাতে এসেছে, তেমনি রিমান্ডে থাকা পরীমনি, পিয়াসা, রাজ, মিশু হাসান ও জিসানের কাছ থেকে জব্দ করা মোবাইল ফোন থেকেও প্রাথমিকভাবে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভিডিও ও ছবি পাওয়া গেছে। আরও তথ্য সংগ্রহ করতে মোবাইল ফোনগুলোর ফরেনসিক পরীক্ষা করা হবে।

 

জিজ্ঞাসাবাদে পিয়াসার কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের উদ্ধৃতি দিয়ে সূত্র আরও জানায়, নামকরা জুয়েলারি মালিক পিয়াসাকে নিয়ে তার এক বাসায় আসর বসাতেন। সেখানে একজন ভারতীয় নাগরিকও থাকতেন। ভারতীয় ওই নাগরিকও ঢাকায় জুয়েলারি ব্যবসা করেন। যে বাসায় আসর বসানো হতো ওই বাসার কেয়ারটেকার রাজিয়া সবকিছু দেখাশোনা করতেন। ওই জুয়েলারি ব্যবসায়ীর সঙ্গে মডেল পিয়াসার ঘনিষ্ঠ ছবিও পাওয়া গেছে। পাওয়া গেছে তাদের মধ্যে মোবাইল ফোনে কথোপকথনের রেকর্ড। পিয়াসার দেওয়া এ তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের জন্য রাজিয়াকে ডেকে পিয়াসার মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে।